অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এ যেনো অনেকের নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। একবার চুল পাকতে শুরু করলে এর অনেকের দ্রুতই মাথার বাকি অংশও সাদা হতে থাকে। তাই মাথায় সাদা চুল দেখা গেলেই সতর্ক হওয়া জরুরী। পাকা চুলের সমস্যা যেনো বেড়ে না যায়, তার জন্য প্রয়োজন নিজের দৈনন্দিন পরিচর্যায় কিছু পরিবর্তন।
পাকা চুল সবসময় বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ নয়। যেকোন বয়সেই মাথায় দেখা দিতে পারে রূপালী রেখা। চুলের অকালপক্বতার মূল কারণ জিনগত। এর পাশাপাশি চাকরি বা ব্যবসার অত্যাধিক চিন্তা, পরিবেশ দূষণ, ডায়েটে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া তেলমশলা ইত্যাদি কারণে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়। অনেক সময়েই দেখা যায় কারও কারও ত্রিশের কোঠাতেই মাথার চুল পেকে গিয়েছে।
এক বার চুল সাদা হয়ে গেলে তা আর স্বাভাবিক ভাবে কোনও দিন কালো হবে না। তা ছাড়া এক বার চুল পাকতে শুরু করলে খুব দ্রুত মাথার বাকি চুলও সাদা হতে থাকে। তাই মাথায় সাদা চুল দেখা গেলেই সতর্ক হোন। পাকা চুলের সমস্যা যেন আর না বাড়ে, তার জন্য রোজের রুটিনে কিছু বদল প্রয়োজন।
চুলের অকালে পেকে যাওয়া গোড়া থেকেই নির্মূল করতে চান? ৩টি প্রাকৃতিক উপায় মানলেই পাবেন সুফল-
১) ডায়েটে বিশেষ পানীয় রাখতে পারেন। ১ টেবিল চামচ গোটা ধনে আর গোটা জিরে নিয়ে হামানদিস্তায় গুঁড়ো করে নিন। এরপর ২ গ্লাস জলে বেটে রাখা মশলা দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। জল অর্ধেক হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে ঠান্ডা করে নিন। সারা দিন অল্প অল্প করে এই জলে চুমুক দিন।
২) কারিপাতায় উপস্থিত বিভিন্ন যৌগ ‘মেলানিন’ উৎপাদনে সাহায্য করে। মেলানিন চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ নারকেল তেল গরম করে তার মধ্যে ১ মুঠো কারিপাতা দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন মিনিট পাঁচেক। পাতার রং বাদামি হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করে ছেঁকে তেলটি কাচের বোতলে রাখুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এই তেল দিয়ে মাথার তালুতে ব্যবহার করুন। এরপর ঘণ্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সকালে উঠে কারিপাতা চিবিয়ে খেলেও লাভ হবে।
৩) দইয়ের মধ্যে ১ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ কালোজিরে গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ আমলা গুঁড়ো ভাল করে মিশিয়ে নিন। এরপর এই প্যাক মাথায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দু’দিন এই প্যাক ব্যবহার করতে পারলে ভাল কাজ দেবে।
অকালপক্বতার সমস্যা দূর করতে চাইলে ডায়েটে বদল আনা জরুরি। খুব বেশি নুন, তেলমশলা দিয়ে তৈরি খাবার নয়, পেট ঠান্ডা রাখে এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে। ফল, শাকসবজি, শস্যদানা বেশি করে খেতে হবে। ঘরে তৈরি গরম খাবার খান। ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার, অনেক দিনের বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন। কফি, ভাজাপোড়া, অত্যধিক ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন। এছাড়া ডায়েটে নিয়ম করে ডাবের জল, শাক, খেজুর-কাঠবাদাম খেতে হবে।
পতাকানিউজ/কেএ

