বগুড়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ইয়াহিয়া নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার, ৩ মার্চ রাতে শহরের কলোনি এলাকার পাবলিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বজনদের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মৃত ইয়াহিয়া জেলার গাবতলী উপজেলার কর্ণি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু ইয়াহিয়ার ডান হাত ভেঙে যাওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় তাকে পাবলিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক।
স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে শিশুটিকে অচেতন করার জন্য (অ্যানেস্থেশিয়া) ইনজেকশন দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তার আর জ্ঞান ফেরেনি। একপর্যায়ে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা অচেতন করার ইনজেকশন দেয়ার পর আমার ছেলের আর জ্ঞান ফেরেনি। ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। কোনো বিচার না পেয়েই ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।’
ঘটনার পর উত্তেজিত স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের মালিক আরিফুলের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের মালিক আরিফুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বগুড়া সদর থানার ওসি তদন্ত মাহফুজ আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

