সরকার পতনের পর হত্যা ও নাশকতার মামলার আসামি হয়ে পলাতক আছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। পলাতক থাকলেও তার নামেই নিয়মিত বিদ্যালয় থেকে বেতন-ভাতার টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের দাবি, পলাতক শিক্ষক নয়, বেতন নিচ্ছেন তার পরিবর্তে নিয়োজিত খন্ডকালীন একজন শিক্ষক। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের পরিবর্তে খন্ডকালীন শিক্ষক নেয়ার কোন বিধান নেই বলে জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা জানান, মোলামগাড়িহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ছিলেন এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে ছিলেন। যার বদৌলতে তিনি জেলা পরিষদের সদস্য পদও ভাগিয়ে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা ও নাশকতার কয়েকটি মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকে তিনি এলাকাছাড়া হলেও গত এক বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতার অর্থ তুলেছেন। আর এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করেও ভাতাসহ গত এক বছরে তিনি উত্তোলন করেন প্রায় চার লক্ষাধিক টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, দলীয় দাপটে ওই শিক্ষক ছিলেন এলাকায় প্রভাবশালী। বিদ্যালয়ে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকতেন। ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করেননি। প্রধান শিক্ষকের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। তার পরিবর্তে খণ্ডকালীন যে শিক্ষক দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হচ্ছে, সেই শিক্ষক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ল্যাব সহকারী। যিনি মাধ্যমিক পাশ।
এবিষয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর মেলেনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পলাতক থাকায় খন্ডকালীন একজন শিক্ষক তার দায়িত্ব পালন করছেন। যার বেতন তিনিই পরিশোধ করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি বেতন-ভাতা তুলেছেন। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু তার অনুপস্থিতিতে বেতন-ভাতার অর্থ তিনি আর তুলতে পারবেন না।’
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে খণ্ডকালীন একজন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। পরবতীর্তে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।’
জয়পুরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসেনি। শিক্ষকের পরিবর্তে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের কোন বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পতাকানিউজ/এসি/এএইচ

