প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অপরাধের মামলায় খুলনার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটর উপ-কমিশনার আলী রেজা হায়দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট মাসুম মিয়া এ অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনের ফলে আলী রেজা হায়দারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। বাদী পক্ষের আইনজীবী মুনজুর আলম বিচার শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযোগ গঠনের সময় আসামি আলী রেজা হায়দার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান।
আসামি পক্ষে আইনজীবীরা মামলা থেকে আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুনজুর আলম, আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন, গাফফার হোসেন, মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান ও সাইফুল্লাহ আরাফাত। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আলী রেজার প্রথম স্ত্রী নুরে হোমায়রা অভি বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদীর সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তা আলী রেজার ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। নুয়াইরাহ নুমা বিনতে রেজা নামে তাদের একটি সাত বছরের মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী। বাদী ও আসামির সংসার জীবন ১০ বছরের। কিন্তু আসামি বাদীকে কখনো ভরণ পোষণ দেননি। ভরনপোষণ চাইলেই স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন আসামি। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। আসামি অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে হুমকি দিতেন। যৌতুকও দাবি করতেন। এভাবে দাম্পত্য জীবন চলতে থাকা অবস্থায় আলী রেজা স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট মুর্শিদা আক্তার নামের একজনকে বিয়ে করেন। তাকে নিয়ে সংসার করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এই ধারায় প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে সালিশ বোর্ডের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না বলে বলা হয়েছে। সালিশ বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা পৌর মেয়র। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের শাস্তি এক বছরের কারাদণ্ড।
পতাকানিউজ/এ/এএইচ

