একসময় অফিস মানেই ছিল ফরমাল শার্ট, ব্লেজার, হাই হিল বা টাই বাধা নির্দিষ্ট একরকম ড্রেস কোড। কিন্তু সময় বদলেছে। দীর্ঘ সময় কাজ, ব্যস্ত জীবনযাপন আর আরামপ্রিয় প্রজন্মের আগমনে বদলে গেছে অফিস ফ্যাশনের ধারাও। এখন ট্রেন্ড একটাই- কমফোর্ট ইজ দ্য নিউ গ্ল্যামার।
আরামদায়ক পোশাকে আত্মবিশ্বাস

কর্পোরেট জগতে এখন এমন পোশাকই জনপ্রিয় যা দেখতে স্মার্ট, কিন্তু পরতে আরামদায়ক। ঢিলেঢালা ট্রাউজার, কটন বা লিনেন শার্ট, ওভারসাইজ ব্লেজার, এমনকি স্মার্ট কুর্তিও জায়গা করে নিয়েছে অফিস ফ্যাশনে।

ফ্যাশন ডিজাইনাররা জানান, আগে অনেকেই ভাবতেন ফরমাল মানেই টাইট ফিট আর হিল জুতো। এখন কাজের মানসিক চাপের সঙ্গে আরামের প্রয়োজনীয়তা সবাই বুজতে পারছে, তাই আরামদায়ক পোশাক এখন স্টাইলেরই অংশ।

কমফোর্টের সঙ্গে স্টাইলের ভারসাম্য
-অফিস ফ্যাশন শুধু আরামের ব্যাপার নয়, স্মার্ট লুকও জরুরি।
-নারীদের মধ্যে এখন মনোক্রোম সেট, মিডি স্কার্ট, ও ব্লক হিল বেশ জনপ্রিয়।
-পুরুষরা বেছে নিচ্ছেন চিনো প্যান্ট, ক্যাজুয়াল ব্লেজার, ও লোফার।
-ব্যাগ, ঘড়ি আর মিনিমাল জুয়েলারিই এখন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।
পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় পোশাকের জনপ্রিয়তা
অফিস পোশাকে এখন ট্রেন্ড চলছে সাসটেইনেবল ফেব্রিক বা পরিবেশবান্ধব কাপড়ের। যেমন- খাদি, লিনেন, কটন, জামদানি মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করছে তরুণ প্রজন্ম। এতে যেমন আরাম, তেমনি দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়াও আছে।
স্টাইল কনসালট্যান্টরা জানান, লোকাল ফ্যাব্রিক দিয়ে বানানো সিম্পল পোশাক এখন গ্লোবাল ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলাচ্ছে। ফ্যাশনে এখন আইডেন্টিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রেস কোডে নমনীয়তা—অফিসের নতুন বাস্তবতা
অনেক অফিসেই এখন আর কঠোর ড্রেস কোড নেই, বরং কর্মীদের নিজের আরাম অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিচ্ছে। এই পরিবর্তন কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে এবং কর্মক্ষেত্রকে করছে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ। অফিস ফ্যাশনের এই পরিবর্তন শুধু পোশাকের নয়, চিন্তারও। গ্ল্যামার মানে আর কৃত্রিমতা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস আর স্বাচ্ছন্দ্য। যে পোশাকে আপনি স্বস্তি পান, সেটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় ফ্যাশন ট্রেন্ড।
পতাকা নিউজ/ এনএফএন

