জালিয়াতি করে অন্যের শিক্ষাগত সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটালিয়ন আনসার পদে চাকরি করে আসছিলেন আব্দুর রাজ্জাক (৫৯)। চাকরি জীবনে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ৩৭ লাখ টাকার বেশি। তবে এবোর আর শেষ রক্ষা হয়নি। তার দীর্ঘদিনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার, ২২ এপ্রিল দুপুরে দুদক সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজ্জাক পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলিপাড়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আবু প্রামানিকের ছেলে।
দুদক সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যায়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্র ধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার মধুরগাতী গ্রামের ফয়েজ প্রামানিকের ছেলে আব্দুল মাজেদ মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ব্যাটালিয়ন আনসার (রেজি নং-৩৩১৫৭) পদে যোগ দেন আব্দুর রাজ্জাক। নিজের পরিচয় গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি করে আসছিলেন তিনি।
চাকরিকালে অপরাধমূলক অসদাচারণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে বেতনভাতা বাবদ মোট ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৬১ টাকা ৮৪ পয়সা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেছেন রাজ্জাক। যা দন্ডবিধির-৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদক সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যায়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্র ধর বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ২০২১ সালে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ার কারণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকে চিঠি দেন তারা। তার প্রেক্ষিতে দুদক পাবনা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোক্তার হোসেন বাদি হয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।’
মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত রাজ্জাক। তাকে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দেয় দুদক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজির হননি।
আজ তিনি দুদক পাবনা কার্যালয়ে হাজির হলে তাকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক মমিন উদ্দিন। পরে বিচারের জন্য তাকে পাবনা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পতাকানিউজ/এমএসআর/আরবি

