অবশেষে শুরু হলো প্রায় ২৮ কোটি টাকার ফেনীর শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ড্রেন নির্মাণ পাইলট প্রকল্পের কাজ।
চাঁদার দাবিতে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় দীর্ঘ সময় থমকে থাকা ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ড্রেন নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল বেলা ১২টায় শহরের ফায়ার সার্ভিসের সামনের এলাকায় ফেনী পৌরসভা প্রশাসক রোমেন শর্মা কাজটি উদ্বোধন করেন।
এসময় ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম, ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন, ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী ফৌজুল আজিম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম সহ ফেনী পৌরসভা, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় পতাকানিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর জেলাজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কর্মতৎপরতা শুরু হয়।
পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) মাধ্যমে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট থেকে মহিপাল পর্যন্ত ড্রেন পুনর্নির্মাণ, ফুটপাত নির্মাণ, ডাক্তারপাড়া, শিল্পকলা একাডেমি সড়ক, জয়নাল আবেদিন সড়ক ও পাঠানবাড়ি রোড উন্নয়নসহ প্রায় ২৮ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কার্যাদেশ পেয়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ শুরুই করা যায়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, কাজ শুরু করতে গেলে বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমি সড়কে কাজ শুরুর পর অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ তুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ করে দেয়। একই রাতে প্রকল্পের মালামাল সংরক্ষণাগারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ৩ মার্চ ডাক্তারপাড়ায় এবং ৫ এপ্রিল শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে কাজ শুরুর সময় আবারও হামলা চালিয়ে স্কেভেটর ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত-এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, কার্যাদেশ স্বাক্ষরের সময় থেকেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে তারা কাজের ভাগ চেয়েছে। ফেনীতে স্থানীয়ভাবে একাধিক ঠিকাদারও আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করছে। এতে তাদেরও ইন্ধন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি কিছু জানি না, কাউকে চিনি না।’
ফেনী পৌর প্রশাসক রোমেন শর্মা বলেন, ‘পিডিএল‘কে কার্যাদেশ দেওয়া প্রকল্পটি এ বৃহৎ পরিকল্পনার অন্যতম পাইলট প্রকল্প। এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে আগামী ৬ বছরে ফেনী ক্লাস্টারে কমপক্ষে ৬০০ কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় কাজটি আজ উদ্বোধন করা হলো, আশা করছি দ্রুততম সময়ে কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।’
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

