অবিরাম বৃষ্টিতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়-বন্দরপাড়া সংযোগ সড়কের স্লুইসগেট সেতু ধসে পড়েছে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করতে পারছে না।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সেতুর দুপাশে থাকা পাঁচটি দোকানও পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নিচের মাটি ধসে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে পানির তীব্র স্রোতে সেতুর ভেতরের অংশ দুর্বল হয়ে পুরো কাঠামো ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, ‘এই সেতুটাই ছিল আমাদের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা। আগে থেকে ফাটল ও মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা মেরামতের পদক্ষেপ নেয়নি। সেতু ধসে যাওয়ার ফলে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’
স্থানীয় দোকানদার জমির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কেউ আগেভাগে আমাদের সতর্ক করেনি। দোকানে আড়াই লাখ টাকার মালামাল ছিল। কিছুই বের করতে পারিনি।’
কুচিয়ামোড় ইফতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মনিরা খাতুন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে দ্রুত অন্তত একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি।’
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড়ে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সামনের কয়েকদিন এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন পতাকানিউজকে বলেন, ‘সেতুটির সংস্কারে টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই ধসে পড়েছে। পানি কমে গেলে অস্থায়ী একটি সেতু তৈরি করা হবে।
পতাকানিউজ/এমএসআই/আরবি

