ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে—এ নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহল পর্যন্ত আলোচনা চলছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ট সূত্র বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হলেও অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে।
রোববার এই রিপোর্ট লেখার সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার শপথ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। আবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই মুহূর্তে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখনো স্পষ্টভাবে জানতে না পারলেও ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করেছে নতুন মন্ত্রিদের জন্য। যারা শপথ নেওয়ার পর সরকারি গাড়িতে চড়বেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের জন্য জোর প্রস্তুতি চলছে। সেখানেই মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা ছোট ও কার্যকর রাখার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে কেন্দ্র করে উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও নীতিগত বিশেষজ্ঞদের একটি শক্তিশালী টিম গঠন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারে দক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
অভিজ্ঞদের মধ্যে আলোচনায় যাঁরা
দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, রুহুল কবির রিজভী, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগের সরকারের অভিজ্ঞতা থাকা এবং বিতর্ক কম—এমন ব্যক্তিদেরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীর নামও আলোচনায় আছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নজরুল ইসলাম খান?

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে মন্ত্রিসভায় না রেখে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে দলীয় নেতাদের অনেকে মনে করছেন।
নতুন মুখ ও টেকনোক্র্যাটদের জায়গা
এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতা ও নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, পঞ্চগড়, সিলেট, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলের কয়েকজন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নাম আলোচনায় রয়েছে। চট্টগ্রামের মীর হেলালের নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে তরুণদের সারি থেকে।

একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ না নেওয়া কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং টেকনোক্র্যাটদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য ও সম্প্রচার, জনপ্রশাসন বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে টেকনোক্র্যাট নিয়োগের কথাও উঠে এসেছে।
নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বে গুরুত্ব
নারী নেতৃত্ব এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে দলীয় মহলে আলোচনা চলছে। পার্বত্য অঞ্চল থেকে একজন প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জোটসঙ্গীদের জায়গা হবে?
যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকায় জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থসহ কয়েকজন মিত্র নেতার নাম বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া মিত্র দলের নেতাদের মধ্য থেকেও অন্তত দু-একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
প্রশাসনিক ও নীতিগত সংস্কারে বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা
নতুন সরকারের পরিকল্পনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং নীতি বাস্তবায়নে দ্রুততা আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে—এমন কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করার আলোচনা চলছে।

এখন সবার নজর চূড়ান্ত তালিকার দিকে
নতুন সংসদের শপথের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দেশবাসীকে আর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।
–পতাকানিউজ

