অভিনেত্রীকে নিয়ে সমুদ্রদের দিকে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই তলিয়ে গেলেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তবর্তী তালসারি সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করার সময় পানিতে ডুবে যান। রাহুলের শুটিংয়ের সেই মুহূর্তের ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা তাঁর শেষ মুহূর্তগুলোর একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
পুলিশ ও শুটিং ইউনিটের সূত্রে জানা গেছে, শ্বেতা মিশ্রের সঙ্গে শুটিং চলাকালীন রাহুল সমুদ্রের দিকে এগোছিলেন। শ্বেতা প্রথমে পানিতে পড়ে যান এবং রাহুল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে হঠাৎ বড় ঢেউ এসে রাহুলও তলিয়ে যান। উপস্থিত কলাকুশলীরা শ্বেতাকে বাঁচাতে সক্ষম হন, কিন্তু রাহুলকে উদ্ধার করার সময় তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুটিং ইউনিটের পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, শট চলাকালীন রাহুল ও শ্বেতা হাঁটুর নিচ অবধি পানিতে ছিলেন। ড্রোন শট ও কামেরা ফ্রেমে তাঁদের হাতে হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগোতে দেখা গেছে। ‘তারা সেখানে যাওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করছিল। অনেকেই ‘যেয়ো না, যেয়ো না’ বলতে থাকলেও তাঁরা এগিয়ে যান। ইউনিটের ১০-১২ জন সাঁতার জানতেন, তাঁরা রাহুল ও শ্বেতার পাশে এগিয়েও যান। কিন্তু অত গভীরে যাওয়াটা দৃশ্যের অংশ ছিল না,’ বলেন শুভাশিস।
পরিচালকের মতে, শ্বেতার পরনে শাড়ি থাকায় তিনি সাঁতার সামলাতে পারেননি, যা পানিতে পড়ার এক কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। শুটিং ইউনিট ও লাইফবোট দ্রুত এগিয়ে আসে, কিন্তু ততক্ষণে রাহুল অনেকটা পানি গ্রাস করেছিলেন। শ্বেতাকে নিরাপদে আনার পরও রাহুলকে হাসপাতালে নিলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবন
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনে একাধিক স্মরণীয় অবদান রয়েছে। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের কাছে তিনি ‘রাহুল-প্রিয়াংকা’র রাহুল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কৃষ্ণ-পল্লবী জুটি তখন নতুন প্রজন্মকে টালিউডের সঙ্গে পরিচিত করেছিল। ২০১০ সালে রাহুল ও প্রিয়াংকার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি পুত্রসন্তানও জন্ম নেয়। যদিও দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব আসে, দর্শকদের মনে রাহুল-প্রিয়াংকা জুটি অমর।
শুটিংয়ের পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট ক্যামেরা ফুটেজ উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্র জানায়, শুটিং চলাকালীন রাহুলের কিছু শেষ মুহূর্তও ওই ফুটেজে ধারণ হয়েছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনাক্রম এবং দুর্ঘটনার কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
স্থানীয় ও টালিউড সূত্রের মতে, রাহুল ছিলেন পেশাদার ও দায়িত্বশীল অভিনেতা। সমুদ্রের প্রতি তাঁর আগ্রহ এবং বাস্তবতার সঙ্গে শুটিং করার উন্মাদনা তাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে—তবে কেউ ভাবতে পারেননি এমন দুর্ঘটনা ঘটবে। শ্বেতা মিশ্রও এই শটের অংশ ছিলেন এবং রাহুলকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন।
টালিউড এবং দর্শক মহলে রাহুলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর কর্মজীবন, আবেগময় অভিনয় এবং জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর স্মৃতি বাঙালি সিনেমাপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। শুটিং ইউনিট ও সহকর্মীরা বলছেন, রাহুল শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, বরং শুটিং সেটের হৃদয় ও প্রাণ।
-পতাকানিউজ

