চট্টগ্রাম মহানগরীর রাস্তা-ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এবার অনেকটা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে চসিক। ফলে অভিযানের খবর আগেভাগে জানতে পেরে ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই নিরাপদে সরে গেছে অবৈধ দখলকারীরা। এতে অভিযানের সুফল নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর বিকেল ৫টায় নগরীর চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু এসময় রাস্তা-ফুটপাতে দখল করে থাকা ভ্যানগাড়ি ও ব্যাটারি রিকশা উধাও হয়ে যায়। অথচ একই এলাকায় সকালের চিত্র ছিল পুরোটা ভিন্ন।

এর আগে বুধবার, ১২ নভেম্বর রাতে পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোড থেকে চকবাজার মোড় পর্যন্ত চসিকের অভিযানের খবর কর্মী-সমর্থক নিয়ে হ্যান্ডমাইকে প্রচার করে রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার আহ্বান জানান সাবেক যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা। এ ঘোষণার ভিডিও প্রচার হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। বিষয়টি নজরে আসে পতাকানিউজের।
সেই ভিডিও’র সূত্র ধরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় সরেজমিন কাঁচাবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাজারের বিপরীত পাশে নরসিংহ মন্দিরের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত। তবে কাঁচাবাজারে প্রবেশমুখের দুপাশে অবৈধ দখল। বাজারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পুরোটা খালি। যেখানে মেয়র ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করেছিলেন তাদের কেউ সেখানে নেই। সবাই রাস্তা-ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
ধুনীরপুলের একপাশে ভাসমান ব্যবসায়ী ও অন্যপাশ ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে। নুর বিতানের সামনে গড়ে উঠেছে অবৈধ ব্যাটারি রিকশার স্ট্যান্ড। এছাড়া ধুনীরপুল থেকে শুরু করে ফুলতলা এলাকা পর্যন্ত সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সারি সারি ভ্যান গাড়ি রাস্তা দখল করে বসে আছে। ফুলতলা ব্রিজের একপাশে বসেছে মাছ বাজার। কিন্তু অভিযান পরিচালনার সময় এসবের কিছুই ছিল না। আগেভাগে অভিযানের খবর জানতে পেরে সবাই উধাও হয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, এর আগেও একাধিকবার অভিযান হয়েছে। যে লাউ সেই কদু। এসব লোক দেখানো। অভিযান শেষে আবার দখল হয়ে যাবে। থানা-পুলিশ আন্তরিক নয়। ফলে অভিযানের পরও সুফল নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও এক দোকানদার বলেন, ‘অভিযানে খবর কৌশলে ফাঁস করে দেয়া হয়েছে। আজ সকালেও রাস্তা-ফুটপাত দখলে ছিল। কিন্তু ৩টার পর সবাই নিরাপদে সরে পড়ে। ফলে ম্যাজিস্ট্রেট এসে কিছুই দেখেননি। কাল থেকে আবারও দখলে হয়ে যাবে। এসব লোকদেখানো অভিযান।’
এর আগে সরেজমিন দেখা যায়, আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর অলিখা মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয় চসিকের অভিযান। এসময় ফুটপাত দখল করায সবুজ হোটেলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এরপর তেলিপট্টি রোডের কয়েকজন দোকানদারকে সতর্ক করা পর চকবাজার মোড়ের এসে হাজী বিরিয়ানী হাউজ ও চিটাগাং হোটেলকে ফুটপাত দখল করায় জরিমানা করা হয়।

এরপর চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকার দিকে ঢুকে চসিকের অভিযানিক দল। কিন্তু ঢুকেই দেখা যায় রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত। সেখানে ওয়ান টু নাইনটি নাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে রাস্তায় পণ্য রাখায় জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় একটি ভ্যানগাড়ি। এরপর প্যারেড কর্নার থেকে একাধিক ফুডভ্যান জব্দের মাধ্যমে অভিযানে শেষ হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মৌমিতা দাশের মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
অভিযানে উপস্থিত থাকা চসিক মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনিও সাড়া দেননি।
পতাকানিউজ/আরবি

