দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও মানুষকে চাঁদের পথে পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। চার নভোচারীকে নিয়ে ‘আর্টেমিস-২’ নামের এই ঐতিহাসিক মিশনের উৎক্ষেপণ আজ বুধবার (১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এটিই হবে প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান। ফলে মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে এই মিশনকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাসা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১০টা ২৪ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ২ এপ্রিল ভোর ৪টা ২৪ মিনিট।
কারা যাচ্ছেন এই অভিযানে
এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন চার নভোচারী—নাসার রিড ওয়াইজম্যান (মিশন কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
এই অভিযানের মাধ্যমে একাধিক ইতিহাসও তৈরি হতে যাচ্ছে। ভিক্টর গ্লোভার হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী যিনি চাঁদের পথে যাবেন, ক্রিস্টিনা কচ হবেন প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন হবেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক যিনি এই ধরনের চন্দ্র মিশনে অংশ নেবেন।
১০ দিনের চন্দ্র ভ্রমণ, তবে অবতরণ নয়
প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তবে এই অভিযানে চাঁদের মাটিতে অবতরণের কোনো পরিকল্পনা নেই। ১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো-৮ মিশনের মতো এটি একটি ‘লুনার ফ্লাইবাই’ বা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের অভিযান।
এই যাত্রায় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় আড়াই লাখ মাইল দূরত্ব পর্যন্ত যেতে পারেন, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন রকেটের প্রথম মানববাহী পরীক্ষা
আর্টেমিস-২ হচ্ছে নাসার শক্তিশালী নতুন স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটের প্রথম মানববাহী পরীক্ষা। কমলা ও সাদা রঙের বিশাল এই রকেটকে ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের মূল বাহন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিশেষ করে দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে একটি ঘাঁটি স্থাপন করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথ তৈরি করা।
নভোচারী ক্রিস্টিনা কচ বলেন, চাঁদ মূলত আমাদের সৌরজগতের প্রাচীন ইতিহাসের একটি সংরক্ষিত দলিল। তাঁর ভাষায়, “চাঁদে গবেষণা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।”

বিলম্ব কাটিয়ে প্রস্তুত নাসা
মূলত ফেব্রুয়ারিতে এই উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। এমনকি রকেটের কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা ও মেরামতের জন্য সেটিকে পুনরায় হ্যাঙ্গারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের প্রকৌশল পরীক্ষা এবং সিস্টেম যাচাই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়াও আপাতত অনুকূলে রয়েছে।
তবে কোনো কারণে আজ উৎক্ষেপণ সম্ভব না হলে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিকল্প উৎক্ষেপণ সুযোগ রাখা হয়েছে। যদিও সপ্তাহের শেষ দিকে আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স
-পতাকানিউজ

