এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পরপর চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে বিএনপিতে ‘উৎসবের আমেজ’ বিরাজ করছে। এ খবর চাওর হওয়ার পর চন্দনাইশ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য পাঁচ বিএনপি নেতা দলের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের অধীনে ১০টি আসনের মনোনয়পত্র সংগ্রহের তালিকায় এ চিত্র দেখা যায়।
বিএনপি এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ধারণা করা হচ্ছিল, এক সময়ের প্রবীণ বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমদের সাথে সমঝোতায় যাবে বিএনপি। তার জন্য এ আসনটি ছেড়ে দিবে তারা। কিন্তু বুধবার, বিএনপি আরও ১০ আসন শরীকদের জন্যে ছেড়ে দেয়। এতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের নাম ছিল না। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে দেখা করতে যান কর্নেল (অব) অলি আহমদ। কিন্তু সেখানে বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি একক নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজার এলডিপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। কর্নেল (অব) অলি আহমদ বলেন, ‘যখন বিএনপির বিপদের দিন ছিল, তখন সবাই আমার বাসায় দৌড়ে আসত। সবাই টেলিফোন করত, কিন্তু এখন কোনো বিএনপি নেতার সঙ্গে আমার টেলিফোনে কথা হয়নি। সামনাসামনি হয়তো অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের কাছে আমি শর্টলিস্ট দিলাম, তারা অন্তত একটা টেলিফোন করে বলতে পারত যে আপনাদের প্রতিনিধি পাঠান আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা ১৪টা, ১২টা আসন দিতে হবে বলছি না, অন্তত ৮ থেকে ৯টা আসন দিলে আমাদের দলটা টিকে যেত, কিন্তু মাত্র ১টা আসন দিয়েছে।’
এদিকে চট্টগ্রামের রাউজান ও সন্দ্বীপে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা হলেন, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে গোলাম আকবর খোন্দকার ও চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এই দুই আসনে বিএনপি যথাক্রমে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মোস্তাফা কামাল পাশাকে দলীয় টিকিট দিয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রামের ১০টি আসনে মোট ২২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন, চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী ও জেএসডির একেএম আবু ইউসুফ। চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মো. বেরায়েত হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন। চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে বিএনপির পক্ষে গোলাম আকবর খোন্দকার এবং এনসিপির মো. মহিউদ্দিন।
চট্টগ্রাম-৭ রাউজান আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরন বড়ুয়া, গণ অধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিম। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এলডিপি নেতা ইয়াকুব আলী। চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এরফানুল হক মনোনয়ন নিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুহাম্মদ হাসান আলী এবং বিএনপির পাঁচ প্রার্থী। তারা হলেন মো. ইখতিয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আল হেলাল, এম এ হাশেম রাজু, মহসিন জিল্লুর করিম ও এজাজ আহমেদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া আসনে জনতার দলের পক্ষে গিয়াস উদ্দিন আহমদ এবং চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে জামায়াতে ইসলামীর জহিরুল ইসলাম মনোনয়ন নিয়েছেন।
পতাকানিউজ/কেএস

