দেশে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে লাগামহীন পেঁয়াজের দাম। মাত্র ১০ দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১২০ টাকার ওপরে। বাণিজ্য উপদেষ্টার সতর্কবার্তা ও আমদানি হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও দাম কমছে না বাজারে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আজ বুধবার, ১২ নভেম্বর ছোট সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়, আর বড় সাইজের ভালো মানের পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। গতকালের তুলনায় আজও কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
ধলপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, শ্যামবাজারে পাইকারি দামে বাড়তি চাপ পড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছি। নতুন পেঁয়াজ বাজারে না এলে দাম কমবে না।
শ্যামবাজারে আজ ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়, বড় পেঁয়াজ ১১০ টাকায়- যা গতকাল ছিল ৯৫ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে।
কেন বাড়ছে দাম
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পেঁয়াজের দাম বাড়ার মূল কারণ কয়েকটি
- সরবরাহ চেইনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য
- সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা
- মৌসুমের শেষ পর্যায়
- বৃষ্টিতে পেঁয়াজের ক্ষতি
- আমদানি বন্ধ থাকা
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা দেখা যায়। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। তাদের মতে, সরকারের উচিত এই সময়ের জন্য স্থায়ী সমাধান খোঁজা।
সরকারের অবস্থান
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই; তবে বাজারে কিছু কারসাজি চলছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আগের মৌসুমের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন পেঁয়াজ মজুত আছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসেই আরও এক লাখ টন নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে।
ভারতে বর্তমানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৮ রুপি (প্রায় ১২ টাকা)। ফলে এখন আমদানি খুললে স্থানীয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই আপাতত আমদানি স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি
গত ৯ নভেম্বর সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি জানান, পেঁয়াজ আমদানির জন্য মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৮০০ আবেদন জমা আছে। এর মাত্র ১০ শতাংশ অনুমতি দিলেও বাজারে বড় প্রভাব পড়বে।
এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং বাজার অস্থিতিশীল করছে।
পতাকানিউজ/এআই

