পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন—এমন আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজেই তা নাকচ করেছেন। রোববার রাতে তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি পদত্যাগ করেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইজিপির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রোববার সদর দপ্তরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আইজিপি পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন বলে কিছু আলোচনা তৈরি হয়। তবে উপস্থিত কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে জানান, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর প্রয়োজন হলে পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
এরপর রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়, আইজিপির পদত্যাগ–সংক্রান্ত খবর সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে না দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাহারুল আলম ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে যান। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে চুক্তিভিত্তিকভাবে আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাঁকে দুই বছরের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে আইজিপি হিসেবে তাঁর বর্তমান মেয়াদের এখনও নয় মাসের বেশি সময় বাকি রয়েছে।
-পতাকানিউজ

