চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। গত বছর এদিনে ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সমর্থকরা তার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষের ঘটনায় খুন হন আইনজীবী আলিফ এ ঘটনায় করা মামলায় গত ১ জুলাই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ৩৮ আসামির মধ্যে ২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে ১৮ জন এখনও পলাতক।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা এবং চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। বুধবার, ২৬ নভেম্বর সমিতির উদ্যোগে জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতির বক্তব্যে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করা বিচার ব্যবস্থা, আইনজীবী সমাজ ও ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই হত্যায় জড়িত প্রতিটি ব্যক্তি আইনের আওতায় আসুক।’
সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী বলেন, ‘একজন আইনজীবীর হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে। তাই দ্রুত বিচারই এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।’
কর্মসূচির সঞ্চালক ও সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল বারী বলেন, ‘উদ্যমী ও মেধাবী আইনজীবী আলিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেন, তারাই যদি নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার গড়িমসি আমরা মানি না।’
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘আলিফ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।’ তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মহানগর পিপি মো. মফিজুল হক ভুঁইয়া, স্পেশাল পিপি রওশন আরা বেগম, ফৌজুল আমিন চৌধুরী, অতিরিক্ত পিপি হোসাইন মো.আশরাফ উদ্দিন, মোরশেদ আলম, সাইফুল আবেদীন, কবির হোসাইন, আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক তারিক আহমদ ও সদস্য সচিব আহমেদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী সাজ্জাদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে চট্টগ্রাম আাদালতে হাজির করা হলে জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। তবে গত ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এছাড়া চিন্ময়কে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত।
বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
পতাকানিউজ/আরএস/আরবি

