বাংলাদেশ ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় অর্ন্তবর্তী সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, যে ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন আমাদের মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেই ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে বেরিয়ে এসে এখন একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। সেই নির্বাচনের পরে নির্বাচনী সরকার এবং সংসদ দেশ ও জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা আমরা করি।
মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এরমধ্যেই দেখা যাচ্ছে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি ও মহল এই পরিবর্তনকালীন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য ভয়ংকর চক্রান্ত করছে। আজকে আবারও আমি সেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শহীদ হওয়া ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দেয়া অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, কিন্তু নির্বাচনকালীন যে পরিবেশ তা তৈরির জন্য তাদের আরও সচেতন ও ইতিবাচক এবং কার্যকরী ভূমিকা পালন করা দরকার। আমরা আশা করি, তারা নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয় সে দিকে মনোযোগ দেবেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটা ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন, যে শাসন আমাদের সমস্ত মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেই ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে বেরিয়ে এসে আমরা এখন একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি। নির্বাচনের পরে একটি নির্বাচিত সরকার ও নির্বাচিত পার্লামেন্ট দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবে—এ প্রত্যাশা আমরা সবাই করছি।’
জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়ে দেয়ার কথা জানান মির্জা ফখরুল। এসব আসনে জমিয়তের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেন তিনি। তাঁরা হলেন সিলেট-৫ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, বি–বাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, দেশের কল্যাণ, স্থিতিশীলতা ও জন–আস্থার জায়গা থেকে তারা বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দলই অন্য দলের চেয়ে বেশি আস্থাভাজন।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ‘আমরা বিশ্লেষণ করে, নিজেরা চিন্তাভাবনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা নির্বাচন জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে করব।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া ও মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস কাসেমী, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাজহারী উপস্থিত ছিলেন।
পতাকানিউজ/কেএস

