রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোর থেকেই দৃঢ় অবস্থান নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘিরে রাখে জনসমাগম। ফজরের নামাজের পরপরই তাদের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে দেখা যায়, যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বড় ধরনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুর মাজার রোড, ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকা ছাড়া উত্তরা বিএনএস, খিলখেত, বসুন্ধরা গেট, শাহবাগ, রামপুরা, মহাখালী, গাবতলী, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি-৩২, সায়েন্স ল্যাব, গুলিস্তান, বাহাদুর শাহ পার্ক, যাত্রাবাড়ী ও চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইসলামি ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রসমাজ ও দেশপ্রেমিক জনগণকে আওয়ামী লীগের নাশকতা ও আগুন–সন্ত্রাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রামপুরা ও উত্তরার চারটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। এছাড়া ঢাকা–১১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে রামপুরা বাজারে দলটির কর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে, বুধবার রাতে গুলশান এলাকায় জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বনানী সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা–১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আওয়ামী লীগের নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানান।
একই দিন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আওয়ামী লীগের নাশকতা ও আগুন–সন্ত্রাস প্রতিরোধে অবস্থান কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দেয় আট দলীয় জোট। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, ফ্যাসিবাদী শক্তির অপতৎপরতা মোকাবিলায় সর্বস্তরের জনশক্তিকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানানো হবে। এছাড়া দেশের সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে সক্রিয় হয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকায় আগামী কয়েক ঘন্টায় পরিস্থিতি আরও দৃঢ়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পতাকানিউজ/এনটি

