জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর দুটি থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে ভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত । বুধবার, ১৫ এপ্রিল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক আবেদনে ও পৃথক আদেশে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানায় করা পারভেজ মিয়া হত্যা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মুন্না (৫৬) এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসানকে দুদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
এদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হাসান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ি ও আশপাশ এলাকায় আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন এবং কয়েকজন নিহত হন। ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৫টায় তোরা বাড়ি চৌরাস্তায় পারভেজ মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করে মাতুয়াইল কবরস্থানে দাফন করেন। এ ঘটনায় পরে যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা করা হয়।
শাহবাগ থানার মামলা
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ তিনজনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন।
রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিয়াম রহমান (২৮), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী মো. মাহবুবর রহমান মাহবুব (২৭) এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ লাভলু (২০)।
আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ১১টায় শাহবাগ থানার প্রেস ক্লাবের সামনে সেগুনবাগিচা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জন অংশ নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ইট, কাচ, বোতল, কাঠ, পাইপ, লোহার রড, লাঠি, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দফায় দফায় হামলা চালায়। অনেককে হেলমেট পরা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে দেখা যায়। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন। এসময় নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠে।
এ হামলায় ৪০-৫০ শিক্ষার্থী ও পথচারী আহত হন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করেন একজন শিক্ষার্থী।
এ পাঁচ নেতাকে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন সময়ে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। রিমান্ড শুনানির সময় প্রত্যেককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর অতিরিক্ত পিপি মো. মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সমান এসব তথ্য জানান।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

