বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নায়ক সালমান শাহর মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা। ২৯ বছর পরেও এই মৃত্যুর রহস্যের জট খুলেনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমান শাহকে। তদন্ত সংস্থাগুলো তখন এই মৃত্যুকে বারবার আত্মহত্যা বলে দাবি করছিলো। কিন্তু তাঁর ভক্ত ও পরিবার এটি আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্যমতে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিলো।
আদালত সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে তাঁর মা নীলা চৌধুরীর দায়ের করা পুনর্বিবেচনা আবেদন গ্রহণ করেছেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পুনরায় জমা দিতে নির্দেশ দেন।
ইতঃপূর্বে সালমান শাহর বাবা প্রয়াত কামরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউভি) মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু এক বছরেরও কম সময় পর, ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে, তিনি মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
বিগত প্রায় তিন দশকে বিভিন্ন সংস্থা মামলাটির তদন্ত করেছে। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বলা হয় এটি আত্মহত্যা যা আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়েছিলো। কিন্তু সালমানের বাবা সেই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে পুনর্বিবেচনা আবেদন করেছিলেন।
২০০২ সালে ছেলের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই সালমানের বাবা মারা যান। পরবর্তীতে মামলাটি দ্বিতীয়বারের মতো বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়, যা ১১ বছর পরও আত্মহত্যা বলেই ইতি টানে।
একটি প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যু অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হলে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী আদালতে আপত্তি দাখিল করেন এবং ১১ জনের বিরুদ্ধে তাঁর ছেলের হত্যার অভিযোগ আনেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, আজিজ মোহাম্মদ, রিজভী আহমেদ, নজরুল শেখ, সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মুস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও মনোয়ারা বেগম।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে মাত্র চার বছরের ঝলমলে ক্যারিয়ারে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক অনন্য তারকা। তার অকাল মৃত্যু আজও অশ্রু ঝরে অগণিত ভক্তের।
পতাকানিউজ/কেএ

