উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রায় এক মাস পর কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ইলিশিয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বসানো অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অভিযান চালিয়ে ‘ইলিশিয়া গরুর বাজার’ উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো বৈধ ইজারা বা অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে হাট বসিয়ে ‘হাসিল’- (খাস-কালেকশন) এর নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছিল।
অভিযান পরিচালনা করেন চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম। তিনি বর্তমানে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কোনো ধরনের সরকারি ইজারা বা স্থায়ী অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানো হচ্ছিল। এতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি হাটের দিনগুলোতে মাঠ লাগোয়া সড়কে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হতো।
এ ঘটনায় চকরিয়া পৌরসভার কাজির পাড়ার শামীম ওসমান বাদী হয়ে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হকসহ ছয়জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন।
রিটকারী শামীম ওসমান বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়ে ‘হাসিল’র নামে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা আদায় করছিল। এতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। জনস্বার্থে এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে তিনি রিট করেন।
তিনি জানান, গত ২৭ জুলাই বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অবৈধ বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে ওই আদেশের পরও প্রায় এক মাস হাট চালু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
চকরিয়া থেকে আলাদা হয়ে কয়েক মাস আগে মাতামুহুরী নতুন উপজেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। তবে এখনও সেখানে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বে মাতামুহুরীর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সীমিত জনবল ও বাড়তি দায়িত্বের সুযোগে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হক বলেন, গত কোরবানির সময় উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তাঁর নামে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুমতির ভিত্তিতেই তিনি বাজারটি পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে সরকারি নিয়মে বাজার বসানোর অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে পুনরায় বাজার বসানো হবে।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম বলেন, জনস্বার্থ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অবৈধ পশুর হাটটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি বিধিবিধান অমান্য করে কাউকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে যাতে সেখানে পুনরায় অবৈধভাবে বাজার বসাতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক থাকবে।
প্রশাসনের অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও সচেতন মহলের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও কীভাবে প্রায় এক মাস বিদ্যালয়ের মাঠে হাটটি চলল এবং এর পেছনে কারা ছিলেন, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
-পতাকানিউজ/এমজেসি

