মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আর বিপণ্ন হচ্ছে পরিবেশ, প্রতিবেশ। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে চলছে সিলিকা বালুর লুটপাট!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৩ সনের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকাবালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৯টিকে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়।
ইজারা গ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনীভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কমলগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।
এ বিষয়ে ২০১৬ সনের ৮ মার্চ জনস্বার্থে রীট পিটিশন করে বেলা। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।
তবে উচ্চ আদালতের এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের পাহাড়ি দেওছড়া, আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া, মাধবপুর ইউনিয়নের জপলাছড়া, আদমপুর ইউনিয়নের লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।
বালু বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক একটি মহল। প্রশাসন এদের বিষয়ে কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে ছড়ার বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী টিলাভূমি বিনষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব।
আলীনগর চা বাগাপনের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম রানা বলেন, বালু খেকোরা এত হিংস্র যে, তাদেরকে বাধা দিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। এ বিষয়ে গত কয়েক বছর ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেও কোন লাভ হয় না।
স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনকারী চক্র খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক লাগিয়ে বালু উত্তোলনের পর ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়ি যোগে পরিবহন ও বিক্রয় করছে। প্রশাসন আসার আগেই তারা টের পেয়ে যায়। তখন স্থান ত্যাগ করে। প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পরই আবার উত্তোলন ও বিক্রয় অব্যাহত রাখে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাড. শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, ইজারা না নিয়ে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। এটি ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। যারা অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তারা উচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনের বিষয়ে সরেজমিন দেওছড়া পরিদর্শন করেছি। তবে সিলিকা বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে সম্প্রতি এসিল্যান্ডকে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার পর কাউকে পাওয়া যায়নি।
ইউএনও বলেন, অন্যান্য ছড়া থেকেও বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পতাকানিউজ/এমআরআর/আরবি

