পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে খুন হওয়া মামুন সম্পর্কে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ বলছে, তিনি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক হত্যা মামলা।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মামুন দৌড়ে একটি ভবনের গেটে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে দুই ব্যক্তি তার ওপর একাধিক গুলি চালান। গুলি লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারা হেঁটে স্থান ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে একটি মামলার হাজিরা দিতে আদালতপাড়ায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ধাওয়া দিয়ে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন নিহত মামুন।
আরও পড়ুন : সূত্রাপুরে গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে
এর আগে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। সেই গুলি লেগেছিল মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুবন চন্দ্র শীল মারা যান।
ঘটনার পর তখন পুলিশ বলেছিল, শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের লোকজন। ওই গুলি লেগেছিল ভুবনের মাথায়। কয়েক মাস আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন জামিনে মুক্ত হন।
সানজিদুল ইসলাম ইমন ও তারিক সাঈফ মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী।
মামুনের পরিবার জানান, গত ২ বছর ধরে বাড্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় ছিলেন। আজ সকালে একটি মামলায় আদালতে তার হাজিরা দেয়ার কথা ছিল। এ জন্য তিনি সকালে বাসা থেকে বের হন।
মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার বলেন, তারা ধারণা করছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
জানতে চাইলে ডিএমপির লালবাগ বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, নিহত ব্যক্তি চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী এবং সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই শহীদ সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি। এর আগেও ২০২৩ সালে কারাগার থেকে জামিন মুক্তি পাওয়ার পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে ভুবন চন্দ্র শীল নামে এক পথচারী নিহত হয়েছিলেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে জানা যায়, তার বাবার নাম এসএম ইকবাল, ঠিকানা: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মোবারক কলোনি এলাকায়।
পতাকানিউজ/এআই

