নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ১৫ বন্দরকর্মীর সম্পদের তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। একইসঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি এ অনুরোধ জানানো হয়।
এছাড়া বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাকেও (এনএসআই) অবহিত করা হয়েছে।
১৫ কর্মচারীরা হলেন- চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলনেতা মো. হুমায়ুন কবির, সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবির (এস এস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে এসব কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘উক্ত কর্মচারীগণ রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত। এসকল বিপথগামী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও এজেন্সিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হল।’
এদিকে বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর বোট ক্লাবে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের বৈঠকের পর চলমান আন্দোলন দুদিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জানুয়ারি এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে করা রুল হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। এরপর ৩১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে।
পতাকানিউজ/আরবি

