এবার কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ফের ডুবল চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা। কোথাও হাঁটু এবং কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বাইরে বের হওয়া মানুষ। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও ভোগান্তির শেষ ছিল না। পরীক্ষা শেষে বের হয়ে অনেকে হয়েছেন কাকভেজা।
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল সকালে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা রোড সাব এরিয়া, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, রহমতগঞ্জ, জামালখান আগ্রাবাদ ও জিইসি মোড়, হালিশহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। আর এসময় ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করেন রিকশাচালকেরা। শুধু রাস্তা নয়, পানিতে থৈ থৈ করছিল ফ্লাইওভারও। এতে সেখানে গাড়ির জট তৈরি হয়।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। এতে অনেকেই দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ ও চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এসময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা পানিতে আটকে স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। চালকরা নিজেরা টেনে গাড়ি নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এছাড়া অন্যান্য গাড়িও আটকে পড়ে। এসময় পথচারীরা কেউ ময়লা পানি মাড়িয়ে আবার কেউ সেই পানি থেকে বাঁচতে রোড ডিভাইডারের ওপর হাঁটতে থাকেন। এছাড়া এসব এলাকার নিচ তলার দোকানপাট ও মার্কেটে পানি ঢুকে পড়ে।
এদিকে নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকা তলিয়ে যায় কোমর সমান পানিতে। এসময় পানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজ ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চলাচল করতে দেখা যায়। দুর্ভোগের যেন শেষ ছিল না।
এসময় এসএসসি পরীক্ষার্থীর একজন অভিভাবক জানান, ‘রহমতগঞ্জে বৃষ্টি হলেই পানি উঠে যায়। চলাচলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। আজ মেয়েকে নিয়ে ভিজে ভিজে বাড়ি যেতে হচ্ছে। রিকশাচালকরা তিনগুণ-চারগুণ ভাড়া দাবি করছে।’
অপরদিকে, গত ১৯ এপ্রিল থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষাকে সামনে রেখে নগরীর খাল-নালা পরিষ্কার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। কিন্তু এ কাজের সুফল নেই বলে জানান নগরবাসী।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা দীপক মিত্র ও ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, ‘চকবাজার এলাকার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ হয়ত কখনও শেষ হবে না। আগেও যা দেখেছে এখনও তা দেখছি। সিডিএ ও সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল-নালা পরিষ্কারে লাভ কী হচ্ছে? বৃষ্টি হলেই পানি উঠে নিচ তলার বাসা-বাড়ি, মার্কেট ও দোকানে ঢুকে পড়ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
এদিকে নগরীর জলবদ্ধতা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রসঙ্গত, ২৬ এপ্রিল, রবিবার রাতের বৃষ্টি এবং ২৭ এপ্রিল সোমবার সকালের হালকা বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর ও আগ্রাবাদ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, সোমবার সকাল ৮টা থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। ৯টা পর্যন্ত ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাতে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
পতাকানিউজ/আরবি

