এবার এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে আবারও ডুবল চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা। কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমর সমান পানিতে থই থই। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বাইরে বের হওয়া মানুষ। বৃষ্টিতে অনেকে হয়েছেন কাকভেজা। গুণতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া।
শনিবার, ২ মে দুপুরের পর হতে হঠাৎ কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ। একইসঙ্গে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে সন্ধ্যার আবহ নেমে আসে। বিকেল ৪টায় শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। প্রায় ১ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত হয়।
এদিকে বৃষ্টিতে নগরীর কাতালগঞ্জ, প্রবর্তক মোড়, রহমতগঞ্জ ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান উঠে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
অপরদিকে নগরীর এসব এলাকার জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনেকে পোস্ট করেছেন।

নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার জলাবদ্ধতার ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুকে মহুয়া চৌধুরী লিখেছেন, ‘চট্টগ্রামে নাকি পানি উঠে না। কতক্ষণ বা হল বৃষ্টি শুরু এখনই এই অবস্থা।’
চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ৮ বিভাগের ওপর দিয়ে বজ্রসহ পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে।
এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি গঠন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার, ২৯ এপ্রিল, জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের কারণে নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ক্ষমা চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
একইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক এলাকায় ও হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসময় প্রবর্তক মোড়ের বদনা শাহর মাজারের সামনে গোড়ালি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত পানি জমে ছিল।
এসময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। শুষ্ক মৌসুমে যেমন থাকে তেমনই আছে। প্রবর্তক মোড়ে খাল নির্মাণের কারণে একটু জলাবদ্ধতা হয়েছিল। তবে এখন নিষ্কাশন হয়েছে। কারণ, আমি নিজে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে এসেছি।’ মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোনার ঝড় উঠে।

পরদিন অপপ্রচার দাবি করে সংসদে বিবৃতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল, ফলে প্রবর্তনা মোড়সহ পাঁচটি জায়গায় জলজট তৈরি হয়েছিল, জলাবদ্ধতা নয়। তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেই পানি নিষ্কাশন হয়েছে। পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক। ২০২৪ সালের ছবি প্রচার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করায় তারা খুবই খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এর মাধ্যমে অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন ‘
এদিকে, গত ১৯ এপ্রিল থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষাকে সামনে রেখে নগরীর খাল-নালা পরিষ্কার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। কিন্তু এ কাজেরও কোনো সুফল নেই।
প্রসঙ্গত, ২৬ এপ্রিল রবিবার রাতের বৃষ্টি এবং ২৭ এপ্রিল সোমবার সকালের বৃষ্টিতে নগরীর চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্রাদপুর ও আগ্রাবাদ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে চলাচলে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পতাকানিউজ/আরবি

