কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদী-বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় শনিবার ভোর ৭টার দিকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ১৩ জন স্থানীয় জেলেকে আটক করেছে। জেলেরা মাছ শিকারের জন্য ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে বের হয়েছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান জানান, ভোর ৪টার দিকে জেলেরা তিনটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ঘাট থেকে মাছ শিকারে বের হন। সকাল ৭টার দিকে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা স্পিডবোট ব্যবহার করে নৌকাগুলোকে ধাওয়া করে এবং অস্ত্রের মুখে ১৩ জন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।
আটক জেলেদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। এদের সবাই শাহপরীর দ্বীপের মাঝরপাড়া ও ডাংঙ্গরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ‘জেলেরা ভোরবেলা মাছ শিকারের জন্য ঘাট থেকে নৌকা চালাতে গেলে স্পিডবোটে করে আসা আরাকান আর্মি তাদের ধরেছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে ও নৌকা মালিকদের জন্য পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা কামনা করছি।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানা গেছে এবং বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয় চলছে। তবে, এখনও এ সংক্রান্ত কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে অন্তত ৪ শতাধিক জেলেকে নানা সময়ে আরাকান আর্মি আটক করেছে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে ফেরত এসেছে। তবে এখনও ৩২টি ট্রলার ও ১৭২ জন জেলে আরাকান আর্মির হাতে বন্দি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরাকান আর্মির এই ধরনের পদক্ষেপ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ শিকার ও স্থানীয় জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জেলেরা নিয়মিতভাবে বন্দি হওয়ার ফলে সমুদ্র সীমান্তে স্থানীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং দ্রুত মুক্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
-পতাকানিউজ/এনপি

