আবারো ৬ দিনের রিমান্ডে দেওয়া হলো ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে। রাজধানীর মিরপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যার অভিযোগে দায়ের মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে ৫ দিনের রিমান্ড শেষে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামুন খালেদকে আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিবি পুলিশ শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ২৬ মার্চ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সেই রিমান্ড শেষে আবারও তাঁকে আদালতে তোলা হলে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন।
পরে তাঁকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং সেখান থেকে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২০ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শেখ মামুন খালেদের কাছ থেকে মামলার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্ত, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়। এসব বিবেচনায় আদালত নতুন করে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শেখ মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সংস্থাটির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-পতাকানিউজ

