ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’- স্লোগানে স্লোগানে শাহবাগের আকাশে-বাতাস মুখরিত করে তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর রাতভর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছেন।
অবরোধকারী জনতা শুধু হাদি হওয়ার স্লোগানই নয়, বরং ‘তুমি কে, আমি কে? হাদি হাদি’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ্য হাদি লড়াই করে’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’—এমন নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের চারদিক অন্ধকার। এ সময় বিক্ষোভকারীরা নিজেদের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল পরিকল্পনাকারীদের এখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, আজ রাতভর তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
এর আগে এদিন জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছালে সেখানে হাজারও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নেন। এর ফলে মৎস্য ভবন, বাংলামোটর, কাঁটাবন ও টিএসসি অভিমুখে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বক্তব্যে বলেন, তারা কোনো আশ্বাস চান না, বরং সরাসরি খুনিদের গ্রেপ্তার দেখতে চান। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা শাহবাগ অবস্থান করবেন।
এদিন সকালে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা ও খুনিদের বিচারের দাবিতে বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়া মোনাজাত ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানানো হয়।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদি জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়া ওসমান হাদি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। তার এই মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।
পতাকানিউজ/কেএস

