২০২৪ সালের জন্য নির্বাচন কমিশনে মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল তাদের আয়-ব্যয়ের বিবরণ জমা দিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বড় দলগুলিও রয়েছে। তবে আয়-ব্যয়ের তালিকায় সবার ওপরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, জামায়াতের আয় ও ব্যয় দুই ক্ষেত্রেই বৃহত্তর পরিমাণ দেখা গেছে, যা সক্রিয় বিএনপির চেয়ে যথাক্রমে দ্বিগুণ এবং পাঁচগুণেরও বেশি।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা (নাম গোপন রাখার শর্তে) জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত এসব দল তাদের আর্থিক হিসাব জমা দিয়েছে। বিএনপির আয় ছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখের মতো, ব্যয় প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং ব্যাংকে জমা প্রায় ১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির আয়-ব্যয় যথাক্রমে ২ কোটি ৬৪ লাখ ও ১ কোটি ৭৯ লাখের আশেপাশে। ছোট দল ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ ও ‘গণঅধিকার পরিষদ’র আয়-ব্যয়ের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক কম।
তবে জামায়াতে ইসলামী দলটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাদের আয় প্রায় ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, আর ব্যয় ২৩ কোটি ৭৩ লাখের ওপর। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এ অর্থবিবরণিতে উল্লেখ রয়েছে, দলটির প্রারম্ভিক তহবিল ছিল ১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তবে দলটির কোনো ব্যাংক হিসাব নেই বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের আয় এসেছে বিভিন্ন উৎস থেকে। কর্মী ও সদস্যদের কাছ থেকে এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, কার্যনির্বাহী ও উপদেষ্টা কমিটির চাঁদা ৩৭ লাখ, ব্যক্তিগত অনুদান ১১ কোটি ৮৬ লাখ, আর প্রকাশনা বিক্রয় থেকে সামান্য আয়। খরচের মধ্যে রয়েছে কর্মীদের বেতন, প্রশাসনিক খরচ, ইউটিলিটি বিল, প্রচার ও যাতায়াতসহ নানা খাত।
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা যায়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২৮টি দলই রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তবে ১০টি দল সময় বর্ধিত করেছে, এবং ১১ দল কোনো সাড়া দেয়নি। ২০০৮ সালের আইন অনুযায়ী তিনবার নিয়মিত আর্থিক হিসাব না দিলে দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। জামায়াত দীর্ঘদিন পর নিবন্ধন ফিরে পেয়ে এবার হিসাব জমা দিয়েছে, আর বর্তমানে নিবন্ধন স্থগিত থাকার কারণে আওয়ামী লীগ এ রিপোর্ট দিতে পারেনি।
পতাকানিউজ/এনটি

