জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জোবায়েদ হোসেন (২৫) হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বংশাল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মাহির রহমান (১৯), বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯) ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২০)।
সোমবার, ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভাংনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মাহির রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত ৯টার সময় শান্তিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে। এর আগের দিন রবিবার সাড়ে ১০টার সময় নিজ বাসা থেকে বার্জিস শাবনাম বর্ষাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত রবিবার, ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার সময় বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং রৌশান ভিলার সিঁড়িঘরের নিচে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর সকালে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এটা বর্ষা ও মাহীরের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বর্ষার সঙ্গে মাহীরের ৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাঝে আবার বর্ষা জোবায়েদের ওপর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় বর্ষা মাহীরকে না করে দেয় এবং সে জোবায়েদেকে পছন্দ করে বলে জানায়। কিন্তু কিছুদিন পরই তার বয়ফ্রেন্ড মাহীরকে জানায় যে, জোবায়েদকে আর ভালো লাগে না। তখন জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে বর্ষা ও মাহীর।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বরই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দুইটি সুইচ গিয়ার কিনে নেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর তারা হত্যার তারিখ নির্ধারণ করে। গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিউশনিতে যাওয়ার সময় বর্ষাদের বাসার সিঁড়িতে মাহির ও তার বন্ধু ফারদিন আহম্মেদ আয়লান মিলে জুবায়েদের ওপর হামলা চালায়।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে জোবায়েদকে হত্যার এই পরিকল্পনা স্বীকার করেনি বর্ষা। পরে মাহীর ও বর্ষাকে মুখোমুখি করলে সব সত্যতা জানা যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সিঁড়িতে প্রবেশের পর মাহির সুইস গিয়ার দিয়ে জুবায়েদের গলার ডান পাশে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় বর্ষা মাহিরকে লোকেশনসহ সব তথ্য সরবরাহ করেছিল।
জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ১৫, নূরবক্স লেনে রওশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
বিকেল ৪টার ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিনতলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচতলার সিঁড়ি থেকে তিনতলা পর্যন্ত সিঁড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পতাকানিউজ/এআই

