ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়ে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও। এরপর তাকে অপহরণ চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর সকালে আশুগঞ্জ উপজেলার চরসোনারামপুর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এদিন বিকেলে আশুগঞ্জ থানায় ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের ভাইসহ ৭ জনের অভিযোগ করেছেন ইউএনও।
অভিযুক্তরা হলেন, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা তারেক মিয়া (৫০), উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার রাজু আহমেদ (৪০), শহীদুল হক ইমন (৪২), ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মো. লাদেন (২৮), একই গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক মিয়া। (২৫), মো. মাসুদ মোল্লা (৩৮) ও ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার মো. সোহান মিয়া (৩৬)। এর মধ্যে তারেক হলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের ভাই। বাকিরা বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এর আগে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ছাগাইয়ার বাসিন্দা আহমদ আলী ও নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমজাদ হোসেনকে এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া পাঁচটি ড্রেজার ও পাঁচটি বাল্কহেড, টাকার ব্যাগ জব্দ করা হয়। অভিযুক্তরা ‘মরিয়ম’ নামে ড্রেজার ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার নেপথ্যে
এজাহার ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুগঞ্জ ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া চর সোনারামপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
সেখানে ৫টি খননযন্ত্র (ড্রেজার) ও ৫টি বাল্ধহেডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে দেখতে পান তারা। ইউএনও জিজ্ঞাসাবাদ করলে উত্তোলনকারীরা জানান, তারা ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই তারেক মিয়ার লোক এবং আশুগঞ্জ এলাকায় বালু উত্তোলনে তাদের কোনো অনুমতি নেই। গুগল ম্যাপে স্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর এলাকা থেকে ৫টি খননযন্ত্র ও ৫টি বাল্কহেড জব্দ করেন।
ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুজনকে সাজা দেন। পরে একজন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য দিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেড আশুগঞ্জের দিকে তীরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ তীরে পৌঁছার সময়ে তারেকের নেতৃত্বে একটি স্পিডবোটে মামলার আসামীরা সেখানে পৌঁছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুগঞ্জের ইউএনও যে খননযন্ত্রে ছিলেন তারেকের লোকজন সেটিতে ওঠেন। তারা জোরপূর্বক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুগঞ্জের ইউএনওসহ তাঁর লোকজনকে ভৈরবের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে।
মামলার আসামি রাজু আহমেদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং ভৈরব থেকে লোক এনে তাদের ক্ষতি করবে বলে ভয় দেখান। তারা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আশুগঞ্জের ইউএনওসহ তার লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে তারা জব্দকৃত দুটি ব্যাগ ও একটি ড্রেজার ছিনিয়ে নেয়। তাদের মারমুখী আচরণে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ভীত হয়ে স্পিডবোট যোগে আশুগঞ্জ সদরে ফিরে যান।
ইউএনও জানান, চর সোনারামপুর থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিলো। দু’জনকে সাজা দেওয়া ও ড্রেজার জব্দ করার পর তারেকের নেতৃত্বে তাদেরকে ভৈরব নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মালিকানাধীন নকিব এন্টারপ্রাইজ বৈধভাবে ইজারা পেয়ে ভৈরব অংশ থেকে বালু তুলছিলো। আশুগঞ্জের ইউএনও অন্যায়ভাবে সেখানে অভিযান চালিয়েছেন। সংবাদ সম্মলনের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা স্পষ্ট করবো।’
ইউএনও রাফে মোহাম্মদ বলেন, ‘ভৈরব অংশের ইজারা নিয়ে আশুগঞ্জ থেকে বালু উঠানো হচ্ছিলো। আগে সতর্ক করা হলেও তারা শুনেননি। অভিযান চালানোর পর আমাদেরকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়।’
আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মো. মোস্তফা রেজা বলেন, সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এটি মামলা হিসেবে নথিভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
পতাকানিউজ/বিপিবি/এসজিএন

