আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলীয় জোট। এমন জটিলতার মধ্যে নতুন জোটের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। বুধবার, ১৪ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। তিনি বলেন,‘তাদের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
এদিকে আজ, বুধবার বিকেলে ১১টি দলের আসন বন্টন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন নিয়ে মতৈক্য না হওয়ায় এ সংবাদ সম্মেলন ভেস্তে গেছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবি ৫০টি আসন। কিন্তু জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। এ নিয়ে ইসলামী দল দুটির সমঝোতা আটকে যায়।
আসন বন্টন নিয়ে গাজী আতাউর বলেন, ‘আশা করা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত সেটি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ মজলিসে আমেলার (দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম) বৈঠক হয়েছে। যাদের নিয়ে শুরু থেকে পথচলা, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যোগাযোগ করছে। দু–এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
বিএনপির সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন, সেটা তো হয়ে গেছে।’ তবে আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচটি ইসলামী দলের জোট হবে কিনা তাও তিনি স্পষ্ট করেননি।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ভেস্তে গেছে এমন পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেয়ার মতো অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নানা প্রতিকূলতা থাকলেও ন্যূনতম সমঝোতা যাতে থাকে, ইসলামী আন্দোলন সেই চেষ্টা করে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু সংকট আছে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনকে মেনে নিতে হবে, এ রাজনীতি তাদের দল অতীতেও করেনি। কেউ ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করলে তা–ও তারা মেনে নিতে পারবেন না।’
পতাকানিউজ/আরবি

