লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সভায় একাধিক বন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন রানার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে লোহাগাড়ায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইউএনও মো. সাইফুল ইসলামের পাশে আওয়ামীলীগ নেতার ছবি দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাজিম উদ্দিন রানা (৪২) বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের আজিজনগর রোডপাড়ার মৃত আহমদ ছফার ছেলে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা তামিম মির্জা বলেন, নাজিম উদ্দীন রানা নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আজিজনগর সাংগঠনিক উপজেলার সাবেক সভাপতি ও আজিজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তিনি লামা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বান্দরবান জেলা কৃষক লীগের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ধরণের আওয়ামী দোসরের সাথে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড হলে ছাত্রজনতা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে বাধ্য হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নাজিম উদ্দিন রানার বিরুদ্ধে চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বনবিটের ৫টি মামলা ও চুনতি অভয়ারণ্যের করা ১টিসহ মোট অর্ধ ডজন বন মামলা রয়েছে। এসব মামলার বেশির ভাগই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি সাতগর বনবিট ও চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বন ধ্বংস করে মাছের ঘের, বনবিভাগের জায়গা দখল ও অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগে করা হয়েছে।
বনবিভাগের জায়গা দখল করে তিনি ৪টি ও তার এক খালাত ভাই ৭টি মাছের ঘের করেছেন। এসব মাছের ঘের গত বছরের ৫ আগস্টের পর উচ্ছেদ করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুর রহমান জানান, চলতি বছরের ১৫ জুলাই লোহাগাড়া ভূমি অফিসে গোপনীয় তথ্যের ছবি তুলতে গিয়ে নাজিম উদ্দিন রানা হাতেনাতে আটক হন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়। তার জব্দকৃত মোবাইল আদালতের মাধ্যমে ফরেনসিক রির্পোটের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চার্জশিট দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার বিস্ফোরক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে সাথে নিয়ে লোহাগাড়া নির্বাহী অফিসার মতবিনিময় সভা করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, চুনতি অভয়ারণ্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। সেখানে বন মামলার আসামিকে প্রশাসনিক বৈঠকে বসানো সরকারের পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পতাকানিউজ/এইচএম/এসজিএন

