ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে নতুন দিক নির্দেশ করছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই বিষয়ে চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যেই অগ্রগতি ঘটেছে এবং তিনি রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য বিশেষ দূত পাঠাবেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনীয় আলোচকরা ট্রাম্পের প্রাথমিক শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার দিকে প্রথম কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউক্রেন উল্লেখ করেছে, প্রাথমিক পরিকল্পনায় কিয়েভকে মস্কোর কাছে কিছু অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া, সামরিক শক্তি সীমিত করা এবং ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে কিছু ছাড় দেওয়ার আহ্বান থাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিক্রিয়ার পর পরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হয়েছে, যা কিয়েভ স্বাগত জানিয়েছে।
এর আগে, একজন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কিয়েভ এই ‘কাঠামোর সারমর্ম’ সমর্থন করছে। জেনেভায় আলোচনার নেতৃত্বদানকারী জেলেনস্কির চিফ অফ স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাক মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ইউক্রেন যে নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাইছে তা অত্যন্ত দৃঢ়।
হোয়াইট হাউজে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান সহজ নয়। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছি’ এবং এ বিষয়ে ‘অগ্রগতি’ হচ্ছে। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে আরও জানান, চুক্তির কিছু অবশিষ্ট পার্থক্য সমাধান করতে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার জন্য বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মস্কোতে পাঠাবেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই তিনি পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হবেন।
এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ইউক্রেন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুলতে পারে।
পতাকানিউজ/এনটি

