ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশিতে আবারও ডুবে গেল অভিবাসীদের স্বপ্ন। ইতালির দক্ষিণ উপকূল লাম্পেদুসার কাছে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সমুদ্রের বুকে নিখোঁজ আরও বহু প্রাণের সন্ধান এখনো মেলেনি। ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—প্রাণের ঝুঁকি জেনেও কেন মানুষ এই বিপজ্জনক যাত্রায় নামছে?
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ কাজটিকে কঠিন করে তুলছে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা সমুদ্র থেকে ৬০ জনকে জীবিত তুলে আনতে সক্ষম হন। লাম্পেদুসায় নিয়ে আসা এই যাত্রীদের মধ্যে ৫৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মুখপাত্র ফ্লাভিও দি জিয়াকোমো জানান, দুই নৌকায় মিলিয়ে প্রায় ৯৫ জন ছিলেন। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৩৫ জন হয়তো নিখোঁজ, নয়তো পানির নিচে চাপা পড়ে আছেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পর একটি নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। আতঙ্কে যাত্রীরা পাশের আরেক নৌকায় উঠে পড়েন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রে সেটি উল্টে যায়, মুহূর্তেই ডুবে যায় অনেক স্বপ্ন।
ইতালির রেড ক্রস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা আপাতত স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন, তবে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অনেকে সমুদ্রের ঠান্ডা ও দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার ধকল সামলাতে পারছেন না।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বে ইতালীয় সরকার অভিবাসন রোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর মরিয়া প্রচেষ্টা থামছে না।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, এ বছর শুরুর পর থেকে কেবল ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চল হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে অন্তত ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যার পেছনে আছে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ আর নিরাপদ জীবনের আকাঙ্ক্ষা।
আল-জাজিরার-
পতাকানিউজ/এনটি

