চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় অধ্যাপক শুইচিন জিয়াংয়ের একটি পুরোনো ভিডিও হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই বছর আগে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হলে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হতে পারে।
ভিডিওটি আবার আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির নতুন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এখন সেই বক্তব্যকে ‘অবিশ্বাস্যভাবে সঠিক’ বলে দাবি করছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেওয়া এই বক্তব্যে অধ্যাপক জিয়াং তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। প্রথমটি— ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরবেন। দ্বিতীয়টি—তিনি ক্ষমতায় এলে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হতে পারে। তৃতীয়টি—সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঝুঁকি থাকবে।
এই তিনটির মধ্যে প্রথম দুটি ইতোমধ্যে বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁকে ‘চীনের নস্ট্রাডামাস’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। উল্লেখ্য, নস্ট্রাডামাস ছিলেন ১৬ শতকের এক ফরাসি জ্যোতিষী, যিনি ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
অধ্যাপক জিয়াং বর্তমানে বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কর্মজীবনের বড় একটি সময় তিনি চীনের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং পাঠ্যক্রম নকশা নিয়ে কাজ করেছেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রের বাইরে তিনি বৈশ্বিক রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে বিশ্লেষণমূলক বক্তব্যের জন্যও পরিচিত। তাঁর একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে— প্রেডিকটিভ হিস্ট্রি । সেখানে ইতিহাসের ধারা, ভূরাজনীতি এবং কৌশলগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঘটনার সম্ভাব্য গতিপথ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন তিনি। বর্তমানে এই চ্যানেলের অনুসারী ১৫ লাখেরও বেশি।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২০২৪ সালের মে মাসে ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে অধ্যাপক জিয়াং বলেন, যদি ট্রাম্প আবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তাহলে ভূরাজনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে এবং সেই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
নিজের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ইতিহাসের একটি বড় সামরিক ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান আক্রমণকে তিনি তুলনা করেন সিসিল অভিযানের সঙ্গে।
প্রাচীন গ্রিসের শক্তিশালী নগররাষ্ট্র এথেন্স বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে সিসিলিতে অভিযান চালিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অভিযান ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল।
অধ্যাপক জিয়াংয়ের মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশাল জনসংখ্যা দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক দখলদারিত্বের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি ভূখণ্ডে পরিণত করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিস্তৃত পাহাড়ি অঞ্চল, দীর্ঘ সরবরাহ লাইন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে প্রাথমিক সামরিক সাফল্যও দ্রুত কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।
এই বিশ্লেষণই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইতিহাসের উদাহরণ টেনে করা এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
-সূত্র : এনডিটিভি
-পতাকানিউজ

