ইসরায়েলি হামলার শিকার হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরান ইসরায়েল লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এরপরই ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
বলা চলে, ইসরায়েল-ইরানের মধ্য কার্যত যুদ্ধ শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্ধনে ইসরায়েল ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর ইরান বাধ্য হয়ে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।
ইরান পাল্টা জবাব দেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইনে অবস্থানরত নাগরিকদের ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ সতর্কতা জারি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, নাগরিকরা তাদের আবাসস্থল বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন, খাবার, পানি, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী মজুত রাখুন। পাশাপাশি প্রদর্শনী বা বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা, পরিচয় গোপন রাখা এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের দিকে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত ও নির্মূলের প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
তেহরানে হামলার লক্ষ্যবস্তু
এর আগে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পারমাণবিক শক্তি সংস্থা। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ। তেহরানের পাস্তুর অঞ্চলে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বাসভবন অবস্থিত।
মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের হুমকি রুখতেই যৌথভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা এবং ইরানি শাসকদের হুমকি বন্ধ করা।’ মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।

ইরানভিত্তিক ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, শনিবার তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিশেষ করে তেহরানের ‘ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট’ ও ‘রিপাবলিক’ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইসরায়েলি হামলার জবাবে দেশটি ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে হামলার কারণে তেহরানের মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবস্থায়ও সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে।
-সূত্র : আল জাজিরা
-পতাকানিউজ

