যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতে মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে ৮৫০ এর বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন বাহিনী| এমন তথ্য দিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
এই ব্যাপারে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এই হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত করার ক্ষমতা রাখে এবং নৌযান, সাবমেরিন থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায়। সেগুলো প্রায় ১,০০০ মাইল (প্রায় ১,৬০০ কিমি) পরিসরে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম।
ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, এই দ্রুত ব্যবহার করার কারণে এখন মজুদ কমে আসছে। এই কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পেন্টাগনে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই ধরনের অস্ত্র দ্রুত উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা করছেন। যাতে ভবিষ্যতেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে।
এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত বার্ষিক সামান্য পরিমাণে উৎপাদন হয়। এছাড়া কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করা হয়। ইরান যুদ্ধে স্বল্প সময়ে অধিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে এখন মজুদ কমে এসেছে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের অতি ব্যবহারের কারণে পেন্টাগন ও কংগ্রেসের মধ্যে ‘উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে। কারণ, ভবিষ্যতে অন্য অঞ্চলে প্রয়োজন হলে তা ব্যবহার করা এবং জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনে কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ক্ষেপণাস্ত্র এখনো পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।
ওয়াশিংটন পোস্ট আরও উল্লেখ করেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বেশি ব্যবহারের ফলে পেন্টাগন আরও বড় বাজেটের প্রয়োজনীয় অনুভব করছে যাতে পুনরায় মজুদ গড়ে তোলা যায়। কারণ, ভবিষ্যতেও সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হলে মজুদ বাড়ানোর বিকল্প নেই।
ইরানে চলমান ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ টমাহকসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, যার প্রভাব এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
ইরানের হামলার শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র একটি স্কুলে আঘাত হানে। এতে শিশু শিক্ষার্থীরা মারা যায়। এই বিষয়ে এখন তদন্ত চলছে। ইরানি কর্মকর্তারা এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ হত্যার অভিযোগ তোলেছে। অবশ্য, মার্কিনিরা এই ধরণের অভিযানের উদ্দেশ্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে বলে দাবি করছে।
-পতাকানিউজ

