মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লীগ। সংগঠনটির সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রোববার ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে বৈঠকে মিলিত হয়ে ‘বেশ কয়েকটি আরব দেশের ভূখণ্ডে ইরানের হামলা’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
আরব লীগের সহকারী মহাসচিব হোসাম জাকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
জানা গেছে, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান ও মিশরের অনুরোধে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার দাবি করেছে ইরান। এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী শনিবার জানায়, তাদের নৌবাহিনী ইসরায়েলের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনী আমেরিকান ঘাঁটি এবং অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটি এবং কুয়েতে অবস্থিত আরেকটি মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরায়েলের একটি ‘কৌশলগত স্থাপনা’কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ড্রোন এবং একটি বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ড্রোনগুলো দেশের দক্ষিণের বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় ভূপাতিত করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে বিপুল তেলের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে শায়বাহ তেলক্ষেত্র অন্যতম।
সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, এই তেলক্ষেত্রই ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আমরাকো জানিয়েছে, শায়বাহ তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয়।
সূত্র : ইরনা নিউজ
-পতাকানিউজ

