গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলবিরোধী ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশটি দীর্ঘ মেয়াদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, এই বিচ্ছিন্নতা বছরের পর বছর স্থায়ী হতে পারে, তাই ইসরায়েলকে আরও স্বনির্ভর হতে হবে।
নেতানিয়াহু জানান, বিদেশি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি, বিশেষ করে অস্ত্র শিল্পে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে নিজস্ব অস্ত্রশিল্প শক্তিশালী করতে হবে। ‘আমরা হব এথেন্স ও স্পার্টার সমন্বিত রূপ,’ যোগ করেন তিনি।
গাজায় আগ্রাসী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং নেতানিয়াহু তা কার্যত স্বীকার করলেন— যা তাঁর ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা।
গত কয়েক দশক ধরে হাইটেক শিল্পের কারণে ইসরায়েলকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল গাজা যুদ্ধ ইতিমধ্যেই সেদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে, অব্যাহত হামলা কেবল প্রাণহানি ও ধ্বংস ডেকে আনবে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগকে আরও জোরালো করবে। যদিও তেলআবিব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি, বরং পূর্বে স্থগিত করা অস্ত্র চালান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অনুমোদন করেছে।
এমনকি ইসরায়েলের ভেতরেই সাধারণ মানুষ, সেনাবাহিনী এবং জিম্মিদের পরিবারও যুদ্ধ তীব্র করার বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এতে জিম্মিদের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়বে এবং মানবিক বিপর্যয় বাড়বে। তবে নেতানিয়াহু যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, ইউরোপের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘চরম ইসলামপন্থী প্রভাব’ এবং কাতারসহ কিছু দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারণাই ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করছে।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিচ্ছিন্নতা কোনো নিয়তি নয়, বরং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ নীতির পরিণতি।
পতাকানিউজ/ওয়াইএস

