পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ঘটে যাওয়া হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনার জন্য পাকিস্তান ‘ভারতীয় প্রভাবে পরিচালিত গোষ্ঠীকে’ দায়ী করেছে। পাকিস্তানে এ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে নয়াদিল্লিতে এক গাড়ি বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার বলেছে, এই হামলাটি কারা চালিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, যদিও (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি)-এর একটি ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করেছে। এরপর কী ঘটতে পারে তা নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোত্রপ্রধান ও স্থানীয় নেতারা আলোচনায় বসেছেন—কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় তা নির্ধারণ করতে, কারণ সবাই উপলব্ধি করছেন যে এটি পাকিস্তানের সামনে থাকা একটি বড় সংকট।
পাকিস্তান বরাবরই বলে আসছে যে টিটিপি যোদ্ধারা, যাদের পাকিস্তানি সেনা অভিযানের ফলে আফগানিস্তানে ঠেলে দেয়া হয়েছিল, তারা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে—এবং ভারত তাদের সহায়তা দিচ্ছে। ফলে অভিযোগ-প্রতিআরোপের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসলামাবাদ আদালতের বাইরে গতকাল সংঘটিত আত্মঘাতী হামলাসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সঙ্গে নয়াদিল্লিকে যুক্ত করার অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স (X)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারত স্পষ্টভাবে পাকিস্তানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনা এই ভিত্তিহীন ও অবাস্তব অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করছে, যা এক বিভ্রান্ত নেতৃত্বের কল্পনাপ্রসূত দাবি ছাড়া আর কিছু নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা পাকিস্তানের পুরোনো কৌশল—নিজেদের দেশের সেনাবাহিনী-প্রণোদিত সাংবিধানিক বিকৃতি ও ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়া আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ক্যাডেট কলেজ ওয়ানায় আগের এক হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করার পর এই প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি।

জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন, এবং পাকিস্তানের এই মরিয়া মনোযোগ-ভিন্নমুখী প্রচেষ্টায় তারা বিভ্রান্ত হবে না।’
ওয়ানা হামলায় সব হামলাকারী নিহত
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে —দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ক্যাডেট কলেজ ওয়ানায় সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চলা আত্মঘাতী হামলায় জড়িত পাঁচজন হামলাকারীই নিহত হয়েছে।
আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই কলেজটি তখন হামলার মুখে পড়ে, যখন সশস্ত্র হামলাকারীরা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি প্রধান ফটকে আছড়ে দেয়। প্রধান ফটকে দুজন হামলাকারী নিহত হয়, তবে বাকি তিনজন কলেজের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কলেজটি থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পতাকানিউজ/কেএস

