ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক সামিটে অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিট ২০২৬-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ এবং দেশটির কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান।
‘নতুন বৈশ্বিক কাঠামো: একটি যোগাযোগের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী এই সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য তুরস্ক সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এবং অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত যোগাযোগ এখন শাসন ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রগুলোকে ক্রমেই তাদের যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অপতথ্য মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন ও পেশাদার গণমাধ্যমই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ভাষায়, “একটি শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ সত্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনআস্থা বজায় রাখতে অপরিহার্য।”
প্যানেল আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে এমন আইন পর্যালোচনা এবং একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার সমাধান একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির মধ্যেই নিহিত। এ ক্ষেত্রে অতি-নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রণহীনতা—উভয়কেই পরিহার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কৌশলগত যোগাযোগের জন্য তিনি তিনটি মূল নীতি তুলে ধরেন—বিশ্বাসযোগ্যতা, গণতান্ত্রিক সহনশীলতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও দ্রুত ডিজিটালায়নশীল দেশে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে তথ্যকে কৌশলগতভাবে বিকৃত ও ব্যবহার করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রাপ্তি ও অবাধ তথ্য প্রবাহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নতুন ও উপযোগী কাঠামো গড়ে তোলা গেলে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী এবং একই সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে চায়। এই যৌথ জ্ঞান বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে তুরস্কের সমর্থনের প্রশংসা করেন তথ্যমন্ত্রী। বক্তব্যের শেষে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়—এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন উত্তর সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহসিন এরতুগ্রুলোগ্লু, সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফা এবং কাজাখস্তানের সংস্কৃতি ও তথ্য বিষয়ক উপমন্ত্রী কানাত ঝুমাবায়েভিচ ইস্কাকভ।
সূত্র: বিএনপি মিডিয়াসেল
–পতাকানিউজ

