ইট-পাথরের নগরী ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের মতো জনকোলাহলপূর্ণ শহরে বাস। চিরচেনা রুটিন ধরে ঘড়ির কাটা মেপে মেপে চলে জীবন। এখানে জীবন ছুটি দেয় না। সময় বড্ড গতিময়। শরীর ক্লান্ত হলেও শরীরকে বলা যায় না- একটু ধীরে, একটু রয়ে-সয়ে। কিছুটা সময় দাও নিজকে।
‘চলও না হারিয়ে যাই, কোনো দূর অজানায়, যেখানে ফেলে আসা স্মৃতিটুকু পাওয়া যায়’—এই লাইনগুলোর মতোই মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে সেই সুযোগ সবসময় পাওয়া যায় না। তবে এবারের ঈদ ছুটিতে আপনি চাইলে বিভিন্ন স্থানে বেড়িয়ে সেই হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি কিছুটা হলেও উপভোগ করতে পারেন।
ঈদের ছুটিতে অনেকেই ঢাকার ভেতর বা বাইরে ভ্রমণ করেন। কেউ নড়ির টানে গ্রামে ফিরে যান, কেউ পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার উদযাপন করেন, আবার কেউ ঈদের পরে ঘুরে আসেন। এছাড়াও চাইলে কাছাকাছি কোনো দর্শনীয় স্থান বা প্রকৃতির কোণে গিয়ে মনকে প্রশান্তি দিতে পারেন। তবে যে কোনো ভ্রমণের ক্ষেত্রে পূর্বপ্রস্তুতি এবং সঠিক পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোথায় বেড়াতে যাবেন
ঢাকা থেকে বেড়ানোর ক্ষেত্রে নির্বাচিত স্থান গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চাইলে টাঙ্গুয়ার হাওর একটি সুন্দর বিকল্প। সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য কক্সবাজার বা কুয়াকাটা চমৎকার গন্তব্য। তবে এইসব জায়গায় ভ্রমণ করতে গেলে আগে থেকে যাত্রাপথ, থাকার ব্যবস্থা এবং ফেরার পরিকল্পনা করে নেওয়া ভালো। কারণ ঈদে এইসব জনপ্রিয় স্থানে ভ্রমণপিপাসুদের চাপ বেড়ে যায়।
পাহাড়, নদী ও সবুজ প্রকৃতির মাঝে ঘুরতে চাইলে নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুর একটি ছবি-সদৃশ গন্তব্য। এছাড়া ঢাকার অদূরে থাকা রিসোর্টগুলোতে কয়েকদিন কাটিয়ে আসা বা একদিনের ভ্রমণও সুখকর হতে পারে। রিসোর্টে থাকলে আগে থেকে রুম বুকিং করে নেওয়া জরুরি।
বেড়ানোর প্রস্তুতি
প্রথমেই ভ্রমণের গন্তব্য নির্ধারণ করুন। কতদিনের ছুটি, বাজেট, স্থান পছন্দ এবং ভ্রমণ সঙ্গীর সংখ্যা বিবেচনা করুন। এরপর যাত্রাপথ ও যানবাহন নির্ধারণ করুন। ঈদের সময় বাস বা ট্রেনের ভিড় বেশি থাকে, তাই অগ্রিম টিকিট কেটে রাখাটা জরুরি। এছাড়া খাওয়া, থাকা এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন।

ভ্রমণের গোছগাছ
ভ্রমণের সময় কোন জিনিস সঙ্গে নিতে হবে এবং কোনটি অপ্রয়োজনীয় তা গোছানো গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পরামর্শ:
- হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন। ঈদের ভারী জামাকাপড় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়।
- পাহাড়ে ট্র্যাকিং বা নদীতে কায়াকিংয়ের পরিকল্পনা থাকলে টি-শার্ট, জার্সি প্যান্ট বা ট্র্যাকসুট নিন।
- ছাতা বা রেইন কোট রাখুন, বিশেষ করে বর্ষার সময়ে।
- প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
- আবাসিক হোটেলে সাধারণত সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট থাকে, তবে নিজের জন্য ছোট ট্রাভেল কিট রাখতে পারেন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র, কর্মস্থল বা স্টুডেন্ট আইডি সঙ্গে নিন।
খাওয়াদাওয়া ও নিরাপত্তা
ঈদে নানা খাবারের আয়োজন হয়। ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত খাওয়ায় সাবধান থাকুন। অচেনা বা অনিরাপদ খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলুন। শিশুদের সঙ্গে থাকলে হঠাৎ বেশি খাবার খাইয়ে না দিয়ে কিছু খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো। পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন; অচেনা জায়গার পানি এড়িয়ে মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করুন।
জুতা ও আরাম
ভ্রমণে আরামদায়ক জুতা পরুন। পাহাড় বা জঙ্গলে গেলে বুট বা কেডস জাতীয় জুতা ব্যবহার করুন। নারীরা হিল বা স্যান্ডেল এড়িয়ে চলুন। বর্ষার সময়ে সঙ্গে স্লিপার রাখুন। দীর্ঘ যাত্রার সময় মাঝে মাঝে জুতা খুলে রাখলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে।
বাড়ি ও নিরাপত্তা
ভ্রমণের আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (বাতি, ফ্যান, টিভি, রাউটার) বন্ধ রাখুন। নগদ টাকা, মূল্যবান গহনা নিরাপদ স্থানে রাখুন।
ভ্রমণের আনন্দ
ভ্রমণের সময় সারাক্ষণ ছবি বা সেলফিতে মন না রেখে প্রকৃতি ও স্থানটি পুরোপুরি উপভোগ করুন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলাপ করুন এবং তাদের সংস্কৃতি জানার চেষ্টা করুন। যেখানে যান, সেখানে দূষণ না করার চেষ্টা করুন। নিয়ম ও সংস্কৃতি মেনে চললে ভ্রমণ হবে আনন্দময়, অর্থবহ এবং স্মৃতিময়।
-পতাকানিউজ

