মুন্সীগঞ্জের পূর্ব রাখী গ্রামের শ্যামল সরকার (৩৮) হত্যা মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, মো. জাহাঙ্গীর বেপারী ও মো. ইব্রাহিম বেপারী।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুন ইসলাম চৌকিদার, আশরাফুল খান, আইয়ুব খাঁ, হুমায়ুন দেওয়ান, লিটন বেপারী, হাবিব বেপারী ও এমদাদ হাওলাদার ওরফে ইমরান। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায় বলা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লিটন বেপারী, হাবিব বেপারী ও এমদাদ হাওলাদার পলাতক। ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্য আসামিরা ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। তাদেরকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছেন, যাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে হাইকোর্টের অনুমোদন দিতে হবে। পলাতক আমারি গ্রেপ্তার হওয়ার বা আত্মসমর্পণ করার পর সাজা কার্যকর হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলার পূর্ব রাখী গ্রামের শ্যামল সরকার ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাতে প্রতিদিনের ন্যায় খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রাত ১০ টায় নিজ বাড়ির চৌচালা ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত ১টায় একই গ্রামের এমদাদ ওরফে ইমরান শ্যামল সরকারের বসতঘরের সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন। শ্যামল সরকার দরজা খুললে দুষ্কৃতিকারীরা জোরপূর্বক ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তারা শ্যামল সরকারকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। পরপর কয়েকটি গুলি করায় শ্যামল সরকারের হাত ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করা হয়। স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ১৫ জুন শ্যামল সরকারের ছোট ভাই ইব্রাহিম বেপারী বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একই গ্রামের ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন ।
গ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামিদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। তাই পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্যামল সরকারকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে মুন্সিগঞ্জ থানার এস আই লিপন সরকার ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্য একজন শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করা হয়। শিশু আদালতে তার বিচার চলছে।
মামলাটি ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। এরপর ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

