নিজ জন্মভূমি সন্দ্বীপে আসছেন বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তার সঙ্গে নৌপরিবহন সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, এলজিইডি সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এডিজি, বিআইডব্লিউটিএ–বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকবেন।
রবিবার, ৩০ নভেম্বর উপদেষ্টার এটি সরকারি সফর হলেও সন্দ্বীপবাসী এ সফরকে দেখছেন জন্মভূমির ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের সম্ভাবনাময় মুহূর্ত হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত অবকাঠামো, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা, ভয়াবহ নদীভাঙন আর বিদ্যুতের সংকটে জর্জরিত এ দ্বীপবাসী এবার সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরতে চান তাদের দীর্ঘদিনের দাবি–দাওয়াগুলো।
সফর সূত্রে জানা যায়, উপদেষ্টা সন্দ্বীপে একটি মতবিনিময় সভা করবেন। সেই সভায় স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত কিছু মানুষ কথা বলার সুযোগ পাবেন। তাই যারা সেই সুযোগ পাননি তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন নানা মন্তব্য।
তবে স্থানীয়দের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার তর্ক বা দোষারোপে কোনোরকম সমাধান আসবে না। ওই সভাতেই তুলে ধরতে হবে সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা কবির সোহেল বলেন, ‘উপদেষ্টার মতবিনিময় সভায় সীমিত সংখ্যক মানুষ থাকবে, এর মধ্যে আমিও থাকবো না। সুতরাং আমরা সেখানে কথা বলার সুযোগ পাবো না। তাই আমরা চাই, যাতে সেখানে কিছু কথা উঠে আসে। যেমন ধরুন হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই মৌসুমেও আমরা ভালোভাবে চলাচল করতে পারছি না। কাদা মাড়াতে হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হলে বাকি সব আসবে।’
স্থানীয়রা জানান, সন্দ্বীপের বড় সংকট হলো চিরস্থায়ী নদীভাঙন। উড়ির চরসহ দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্রগর্ভে বিলীন হওয়া জমি ও বসতি প্রতিদিন বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রণীত প্রকল্পটি এখনো একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় দ্বীপবাসীর সবচেয়ে জরুরি প্রত্যাশা এটি দ্রুত পাশ হওয়া। বাঁধ থাকলেও অনেক স্থানে তা অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাঁধের উপর দিয়ে রিংরোড নির্মাণ এখন সন্দ্বীপবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি।
সন্দ্বীপে প্রবেশের প্রধান সড়ক ‘গুপ্তছড়া রোড’ বছরের পর বছর ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে আছে। বেহাল রাস্তা, ধুলা–কাদা, লম্বা গর্ত সব মিলিয়ে এটি এখন দ্বীপবাসীর সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের প্রতীক।এ ছাড়া দেলোয়ারখাঁ সড়ক এবং উপজেলার পুরোনো সব রাস্তাঘাটের উন্নয়নও দীর্ঘদিনের দাবি।
এলজিইডির মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিপিপি (DPP) অনুমোদন হলে বহু বছরের সমস্যা কাটতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানান, দুটি ফেরিঘাটে সারাবছর ড্রেজিং, নৌরুটে বয়া স্থাপন, অবৈধ জালমুক্ত করে ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সন্দ্বীপে বিদ্যুতের লোড বেশি। কিন্তু সাবস্টেশনের সক্ষমতা কম। ফলে ঘনঘন লোডশেডিং এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। বিদ্যুতের আবেদন করেও খুঁটি ও তারের ঘাটতির কারণে সংযোগ পাচ্ছে না অনেক পরিবার।
সন্দ্বীপের নাগরিক জীবনের সমস্যা নিয়ে সক্রিয় কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সালেহ নোমান। পতাকানিউজকে তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা মহোদয় যখন যে পেশায় ছিলেন তখন তিনি সেই পেশায় থেকে নিজের জন্মভূমির টান অনুভব করতেন এবং দুরাবস্থা নিয়ে কথা বলতেন। বরাবরের মতো তিনি সন্দ্বীপ আসবেন এবং তার নিজের দাদার যে টিনের ঘর সেখানে তিনি রাত্রিযাপন করবেন। সুতরাং মাটির প্রতি যে উনার একটা টান আছে তা অনুভব করা যায়। আশা করছি তার এ সফর সন্দ্বীপবাসীর জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।’
স্থানীয় শিক্ষক আশরাফ বললেন ‘সন্দ্বীপ সম্ভাবনার দ্বীপ। কিন্তু বারবার অবহেলা হয়েছে। এবার যদি সিদ্ধান্ত হয়, সন্দ্বীপ সত্যিই বদলে যেতে পারে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী মাশফিক বলেন ‘সরকারি সফর মানে কাগজপত্র। কিন্তু আমরা চাই কার্যকর প্রতিশ্রুতি রাস্তাঘাট, ফেরি, বাঁধ আর বিদ্যুৎ এগুলো ছাড়া সন্দ্বীপ বাঁচবে না।’
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানান, মতবিনিময় সভাটি হবে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে। এতে সন্দ্বীপের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সকল দলের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন। তবে কনফারেন্স রুমে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় ২৫ থেকে ৩০ জনে সীমাবদ্ধ রাখার কথা জনান এ কর্মকর্তা।
উপদেষ্টার সফর ঘিরে কোনো আশা দেখছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আশাবাদী। আমাদের এখানকার যেসব সমস্যা রয়েছে সেসব সমস্যার সমাধানে সকল বিভাগের সচিব মহোদয়গণ উপস্থিত থাকবেন।’
পতাকানিউজ/এএস/আরবি

