ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার চান্দোয়ারের ৪১ বছরের সঞ্জয় কুমারের জীবন রক্ষার জন্য তার পরিবার আট লক্ষ টাকা ধার করে দিল্লি যাওয়ার জন্য একটি মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান ভাড়া করেছিল। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে রাঁচী থেকে উড্ডয়ন করার পর বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
সঞ্জয়ের পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর হোটেলে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগে। এই ঘটনায় দেহের ৬৩ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমেই গুরুতর হয়ে ওঠে। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়, সঞ্জয়কে সুচিকিৎসার জন্য দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি করানোর।
সঞ্জয়ের ভাই অজয় জানিয়েছেন, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতদের কাছে চেষ্টার মাধ্যমে আট লক্ষ টাকা জোগাড় করা হয়। ওই অর্থ দিয়েই ভাড়া করা হয় ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ’-এর মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচী বিমানবন্দর থেকে বিমানটি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়।
যাত্রাপথে কলকাতা এটিসি‑র সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় পাইলট আবহাওয়াজনিত কারণে রুট পরিবর্তনের অনুরোধ করেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা এটিসি‑র সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছু সময় পরে ঝাড়খণ্ডের চাতরা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিমানে সঞ্জয়ের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী অর্চনা দেবী এবং আত্মীয় ধ্রুব কুমার। বিমানের ক্রু হিসেবে ছিলেন ক্যাপ্টেন বিবেকবিকাশ ভগত এবং সহকারী পাইলট সবরাজদীপ সিংহ। এছাড়া ছিলেন চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্ত এবং প্যারামেডিক সচিনকুমার মিশ্র। দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাঁচী বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়া সম্ভবত দুর্ঘটনার কারণ হলেও, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় তদন্ত করতে ইতিমধ্যেই এএআইবি এর প্রতিনিধিদলকে ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র : আনন্দবাজার
-পতাকানিউজ

