এনআরবি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির ২ মামলায় করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট কেলেঙ্কারিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার, ২৭ জুলাই ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৪ এর বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন পৃথক এ আদেশ দেন।
সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে এনআরবি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ নেন সাহেদ। এছাড়া সাহেদ করিমের নামে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ক্রেডিট কার্ড সুবিধাও গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিনেও ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে এনআরবি ব্যাংক দুটি মামলা করে। এ মামলায় সুদ-আসল মিলিয়ে ব্যাংক প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা পাওনা হয় সাহেদ করিমের কাছে। আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রী দেন। পরে ডিগ্রিজারীর মামলায় সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
তার আইনজীবী জানান, আজ দুটি মামলায় জামিন আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের বিধান অনুযায়ী ঋণের দাবি করা অর্থের ২৫ শতাংশ জমা দিতে না পারায় আদালত তাকে জামিন না দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।
চেক প্রতারণার এক মামলায় সাহেদকে গত ২০ জুলাই কারাগারে পাঠান ঢাকার একটি আদালত। ওইদিন এ মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ওইদিন দুপুরে মিরপুরের ইসিবি এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনা মহামারির সময় সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় র্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।রোগীদের কোনোরকম করোনা পরীক্ষা না করেই হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার এবং সরকার ও রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার অফিসে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা ছিল। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তার সাজাও হয়েছিল।
সকল মামলায় জামিন লাভের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করে। ওই মামলায় ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। যাবজ্জীবন দণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সাহেদ হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শুরুতে হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দিলেও, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই রায় স্থগিত করে দেন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

