তোমার ছোঁয়া লাগলে—
আমার কাগজে নেমে আসে নীল মেঘ,
চোখের কোণে বৃষ্টির জল।
বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা এক একটি নিকষকালো
অক্ষর হয়ে ভেসে যায় মেঘের ভেলায়।
কলম থেমে যায় মাঝরাস্তায়—
শব্দের বদলে ঝড় ওঠে,
বুকের ভেতর ভেঙে পড়ে সমুদ্রের পাড়।
বৃষ্টির জলে ভেসে যায় চৌকাঠ।
তুমি ধীরলয়ে হেঁটে যাও ভেজা রাস্তায়,
ছায়ার মতো পড়ে থাকে তোমার ভালোবাসা।
আমি কুড়িয়ে নেই ভালোবাসার ফোঁটা ফোঁটা অনুভব।
শিশিরের মতো গলে পড়ে তোমার ছায়া,
জানালায় লেগে থাকে রোদ্দুর মেখে।
আমি ছুঁয়ে দেখি সেই আলো,
তোমার গায়ের গন্ধ নেমে আসে আমার শরীর বেয়ে।
গাছের সবুজ পাতায় শিহরণ জাগে,
বুকের গভীরে জমে থাকা জলজ শব্দে—
শব্দগুলো আবার অক্ষর হয়ে ঝরে পড়ে সাদা কাগজে।
কুয়াশায় হারিয়ে যায় তোমার অবয়ব,
ঘাসের উপর পড়ে থাকে তোমার ভালোবাসা।
চকচকে রূপালি শিশির হয়ে
আমি কুড়িয়ে নেই শিশিরকণা—
ফোঁটা ফোঁটা ভালোবাসার অনুভবে।
হেমন্ত ভোরের মতো নিঃশব্দে এসেছিলে তুমি,
আলোর ভিতরেই লুকিয়ে ছিল কৃষ্ণ-অমানিশা।
আমার কবিতা শব্দ খুঁজে—তোমার নিঃশ্বাসে,
তোমার চাহনিতে, তোমার হাঁটার ধ্রুপদী মুদ্রায়।
জলের আয়নায় ফুটে ওঠে তোমার মুখচ্ছবি,
ভালোবাসার শিশিরে ভিজে যায় মন।
হৃদয়ের আঙিনায় ঘুম ভাঙে প্রেমহীন নীরবতার,
সেই নীরবতা ভেঙে এগিয়ে যাও তুমি।
তোমার ভালোবাসা ঝরে পড়ে নিঃশব্দ পাতার মতো,
আমি কুড়িয়ে রাখি শুকনো পাতার মর্মর শব্দ—
তোমার হৃদয়ের ধ্বনি, নিঃশব্দ নদীর স্রোত,
যেন তোমার না বলা কথা।
নরম বাতাসে ভেসে আসে তোমার আঁচলের হাওয়া,
চেয়ে দেখি গোধুলির ভেসে যাওয়া লাল মেঘকাব্যে।
আমি জেগে উঠি চকিতে অদৃশ্য কোমল পরশে—
যেখানে তুমি নেই, তবুও আছো—
একটি মায়াবিনী কবিতার অসমাপ্ত পঙ্ক্তির মতো।
নদীর কলকল, বাতাসের মর্মর ধ্বনিতে,
কখনও শব্দহীন, নীরব শূন্যতায়—
তোমার না বলা কথা হয়ে ওঠে জীবনের উপাখ্যান।
মেঘের মতো উড়ে যায় আমার একাকিত্ব,
তুমি নিঃশব্দে মিশে যাও অসীম শূন্যতায়।
পড়ে থাকে তোমার ভালোবাসা আত্মার মৌনতায়—
আমি সযত্নে তুলে রাখি সেই মৌনতাকে—
তোমার জন্য, আমার জন্য, মানুষের জন্য—
একটি অনন্ত কবিতার জন্য।

