নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে প্রায় ১০০ মণ দেশি ও সামুদ্রিক মাছ বিক্রি হয়েছে। এসব মাছ বেচাকেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কানকিরহাট বাজারে চতুর্থবারের মতো এ ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়ে মেলাপ্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর।
স্থানীয়রা জানায়, পদ্মা, মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে সংগ্রহ করা নানা প্রজাতির তাজা মাছ মেলায় তোলা হয়।
সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতাদের থালায় সাজানো ছিল বড় আকারের রুই, কাতল, চিতল, বোয়াল, আইড়, কালবাউশ, মৃগেল, গ্রাস কার্প, পাবদা, শোল, গজার, তেলাপিয়া ছাড়াও পুঁটি, কৈ, চাপিলা, চান্দা ও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। মেলায় সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের কাতল, রুই ও বোয়াল মাছও বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রায় ২০ জন মাছ বিক্রেতা মেলায় অংশ নেন। প্রতিটি দোকানের সামনেই ক্রেতাদের ভিড় এবং দরদাম হাঁকানোর দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
মাছ কিনতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এবারের মেলায় মাছের সরবরাহ ভালো ছিল। সব মাছই তাজা, তবে দাম কিছুটা বেশি।নোয়াখালীতে এত বড় মাছের মেলা আর কোথাও দেখা যায় না।’
মাছ বিক্রেতা মো. সাহাব উদ্দি বলেন, ‘দেশি মাছের চাহিদা বেশি ছিল। আমরা প্রায় ৭ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি।’
আরেক বিক্রেতা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো হয়েছে। চট্টগ্রাম, ঢাকা, ফেনী ও শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ এসেছে। সামুদ্রিক মাছের প্রতিও মানুষের আগ্রহ ছিল, তবে দামের কারণে সবাই কিনতে পারেননি।’
মেলার আয়োজক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘মাঘ মাসের ১ তারিখ উপলক্ষে চতুর্থবারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০০ মণ মাছ বিক্রি হয়েছে। গত বছর ৭০ মণ মাছ ২১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এবার মোট বেচাকেনা ৩০ লাখ টাকা হয়েছে। আগামীতেও আরও বড় পরিসরে এ মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
পতাকানিউজ/এইচএএ/আরবি

